৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

শুক্রবার বিএনপি ইশতেহার ঘোষণা করবে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি আগামী শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করতে যাচ্ছে। ইশতেহারে দলটির ঘোষিত ৩১ দফা, জুলাই সনদ এবং তরুণ ভোটারের আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো জনমুখী এবং জীবনঘনিষ্ঠ সেবার বিষয়গুলো বিশেষ জায়গা পাবে।

রাজধানীর একটি হোটেলে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিএনপির ইশতেহার প্রকাশ করা হবে। ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি ও কূটনীতিকদের।

ইশতেহারে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ, মানবাধিকার রক্ষা, দুর্নীতিবিরোধী কাঠামো শক্তিশালীকরণের পাশাপাশি অর্থনীতি এবং পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বিশেষ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে। আলেম-ওলামা, সংখ্যালঘু, কৃষকের জন্য বিশেষ অগ্রাধিকারের প্রতিশ্রুতিও থাকবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ইশতেহারে জুলাই সনদের আলোকে নির্বাচন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পূর্ণ স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা দেওয়ার পরিকল্পনা গুরুত্ব পাচ্ছে। কওমি মাদ্রাসা উন্নয়ন, ইসলামিক গবেষণা তহবিল গঠন, ধর্মীয় শিক্ষার আধুনিকায়ন ও ধর্মচর্চার বাধাহীন পরিবেশ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার থাকবে।

পরিবেশ রক্ষায় সারা দেশে খাল ও নদী পুনর্খনন, ২৫ কোটি গাছ রোপণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো জাতীয় ইস্যুগুলোও ইশতেহারে স্থান পাবে। ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সি প্রায় সাড়ে চার কোটি যুবকের কর্মসংস্থান, কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি ও বেকার ভাতার মতো পরিকল্পনা থাকছে। সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখল রোধে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, নিরাপত্তা সেল, উৎসবে রাষ্ট্রীয় সহায়তা এবং সাম্প্রদায়িক হামলা প্রতিরোধে কঠোর কার্যক্রম চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে।

যুব সমাজকে টার্গেট করে বিএনপি বড় পরিসরে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি যুক্ত করা হচ্ছে ইশতেহারে। এর মধ্যে রয়েছে-এক কোটি নতুন চাকরি, স্টার্টআপ ফান্ড, আইটি প্রশিক্ষণ, বিদেশে নতুন শ্রমবাজার ও মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স গঠনের প্রতিশ্রুতি। কৃষককে গুরুত্ব দিয়ে ইশতেহারে কৃষি উপকরণের দাম কমানো, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, কৃষিঋণ সহজ করা এবং ধান-চাল কেনার স্বচ্ছ ব্যবস্থা করার অঙ্গীকারও থাকবে।

নারী নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ, নারী উদ্যোক্তা তহবিল গঠন, মাতৃত্বকালীন ভাতা বৃদ্ধি এবং সহিংসতা প্রতিরোধে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথাও ইশতেহারের অংশ হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের আদলে বাংলাদেশে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ তৈরির পরিকল্পনা ও নির্বাচিত হলে ১৮ মাসে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের বিষয়টিকে রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে রাখছে দলটি।