রাজধানীর বারিধারা জামিয়ার ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ বারিধারা ক্যাম্পাস শাখার ২০২৬-২৭ সনের নতুন কমিটি গঠন সম্পন্ন হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সাবেক কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মাওলানা জয়নাল আবেদীন। তবে নতুন কমিটির সভাপতির বয়স ও তাঁর রাজনৈতিক পদবী নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
গত রবিবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বারিধারা জামিয়ার আল কাসিম মিলনায়তনে নবীনবরণ ও তরবিয়তী মজলিস উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামিয়ার মুহতামিম ও শায়খুল হাদীস মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন হিসেবে জামিয়ার নাজিমে তালীমাত মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ কাসেমীসহ শিক্ষকমণ্ডলী।
অনুষ্ঠানের পর নবগঠিত কমিটির একটি ফটো কার্ড অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল সভাপতি মাওলানা জয়নাল আবেদীনের বয়স। তথ্যমতে, তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, ইতিপূর্বে তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দায়িত্বশীল হিসেবেও কাজ করেছেন।
একটি ছাত্র সংগঠনের ক্যাম্পাস শাখার সভাপতি হিসেবে একজন বয়োজ্যেষ্ঠ এবং মূল দলের কেন্দ্রীয় নেতার মনোনয়ন নিয়ে অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাস্যরসাত্মক মন্তব্য করেছেন। নেটিজেনদের কেউ কেউ তাঁকে ‘আদু ভাই’ বা ‘রাকিব আংকেলের চেয়েও বয়স্ক’ বলে মন্তব্য করেছেন। অনেকে আবার প্রশ্ন তুলেছেন, তিনি বর্তমানে কোনো প্রতিষ্ঠানের ছাত্র কি না?
তবে এই সমালোচনার বিপরীতে ছাত্র জমিয়তের কর্মী ও সমর্থকরা দলীয় সংবিধান ও রীতির কথা তুলে ধরছেন। তাদের দাবি অনুযায়ী, ছাত্র জমিয়তের সংবিধান অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে ছাত্রদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও আনুগত্য নিশ্চিত করতে বয়স্ক বা অভিজ্ঞ কাউকে সভাপতি মনোনীত করা হয়। এটি মূলত বড়দের পরামর্শ ও সাংগঠনিক কৌশলের অংশ যাতে ছাত্ররা মুরুব্বিদের কথা মেনে চলে এবং বিভ্রান্ত না হয়।
সমর্থকদের মতে, দ্বীনি শিক্ষার ক্ষেত্রে ছাত্রত্বের কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই; আমৃত্যু নিজেকে তালিবুল ইলম বা ছাত্র মনে করাটাই আদর্শিক সৌন্দর্য।
তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার মধ্যেই বারিধারা ছাত্র জমিয়তের এই নতুন কমিটি তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ছাত্রদের নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করাই তাদের মূল লক্ষ্য।