১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

সিলেট-২: লুনা না মুনতাসির, কে হাসবেন শেষ হাসি
সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর)। আসনটি ‘ইলিয়াস আলীর আসন’ হিসেবে পরিচিত। মোট ভোটার ৩,৬৮,৯৩২। এ আসনে মোট ৫জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মোছাঃ তাহসিনা রুশদীর ও মুহাম্মদ মুনতাসির আলীর মধ্যে।
এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে তাহসিনা রুশদীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেলেও আইনি জটিলতায় সেবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। এ নিয়ে কিছুটা বিতর্কও আছে সেদিকে যাচ্ছি না আপাতত। তাহসিনা রুশদীর, আসনটির সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী।
ইলিয়াস আলী সিলেট-২ আসনে টানা তিনবার নির্বাচন করেছিলেন এবং দুবার বিজয়ী হন। তাঁর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এখানকার ভোটারদের মধ্যে পরিবারের প্রতি আলাদা সহমর্মিতা আছে। ফলে ইলিয়াস পত্নী লুনার জয় যে নিশ্চিত সেটা এলাকার অনেকে মনে করেন। শোনা যাচ্ছে রেকর্ডসংখ্যক ভোট পেয়ে জয়ী হবেন সিলেটের একমাত্র এই নারী প্রার্থী।
জামায়াত জোট থেকে দেওয়াল ঘড়ি নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলী। মূলত বিএনপির প্রার্থীর সাথে হবে তাঁর মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে তিনিই মনোনয়ন পাবেন, এটি বেশ চর্চা হচ্ছিলো। তবে এলাকার লোকজন মনে করছেন, জামায়াতের আব্দুল হান্নান হলে ফাইট আরো বেশি হতো। তিনি মাঠে কাজ করছিলেন দীর্ঘদিন থেকে।
মুহাম্মদ মুনতাসির আলী রাজনীতির চেয়ে ব্যবসায় বেশি সফল। তাঁর লিডারশিপ এপ্রোচ, পলিসি মেকিং ও দলের ডোমেস্টিক পলিটিক্সের জন্য বেটার। ভোটের মাঠে না আসলেও মন্দ হতো না। তিনি প্লান করবেন, মাঠে কাজ করবেন অন্যরা। তবে এবার জোট হওয়ায় সময় যতো বাড়ছে ভোটের সমীকরণও ততো মুয়াফিক হচ্ছে বলে মনে হয়। তিনি নিঃসন্দেহ যোগ্য মানুষ। আল্লাহ তাঁকে চমৎকার ‘বজ্রকণ্ঠ’ দান করেছেন।
এদিকে জোটের বাইরে এককভাবে নির্বাচন করছে চরমোনাই পীর সাহেবের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিশ্বনাথ বাজারের দীর্ঘদিনের ইমাম ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাওলানা মোহাম্মদ আমির উদ্দিন। তিনি দলের সিলেট জেলা সহসভাপতি ও ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সিলেট জেলা সহসভাপতি। ভদ্র ও সহজ সরল মানুষ হিসেবে তাঁকে চিনি।
আমার প্রথম পছন্দ অবশ্যই মুহাম্মদ মুনতাসির আলী। এমন নেতা সংসদে গেলে দেশের কল্যাণ হবে নিশ্চয়। বিশেষত তরুণদের জন্য ভালো কিছু হবে বলেই মনে করি। খবর পেলাম মুনতাছির ভাইর মাঠ ক্রমশ ভালো হচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত রাখলে দেওয়াল ঘড়ি টাইমমতো বাজিমাত করে ফেলতে পারে। ফিকিরে থাকুন।
এর বাইরে যারা বিকল্প চিন্তা করবেন তারা হাতপাখায় ভোট দিতে পারেন। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে অনেকে নারী নেতৃত্ব চান না আবার কওমি-দেওবন্দি ও সুন্নীদের কিছু ভাইরা জামায়াত জোটকেও পছন্দ করছেন না। তাদের জন্য বেস্ট অপশন হতে পারে হাতপাখা। সিলেট-২ এ একমাত্র আলেম প্রার্থী আমির উদ্দিন। আপনার ভোট নষ্ট হবে না। উচ্চ কক্ষে আসন পেতে তাঁদের সহযোগিতা করতে পারেন।