সবার জন্য সরাসরি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া উচিত নয়। মেধাবী, চৌকস, আদিল; শত্রুর সঙ্গেও ইনসাফ রক্ষাকারী, মুত্তাকি, নির্লোভ, সুপরিকল্পিত সমৃদ্ধ আগামী বিনির্মাণে বদ্ধপরিকর একদল মানুষ রাজনীতি করবে। এটাই কাম্য।
মেধাহীন, হিংসুটে, ঝগড়াটে, অন্যের চরিত্র হননে পটু, মুরব্বীদের প্রতি অশ্রদ্ধা পোষণকারীরা রাজনীতিতে টোটালি আনফিট।
ভরা বাজারে যেভাবে দুইজন সাদা পোশাকধারী আলেমের ঝগড়া মানুষের মধ্যে হাস্যরসের জন্ম দেয়, ঠিক সোশ্যাল মিডিয়ায় দুজন হুজুরের ঝগড়াও একইভাবে নিন্দুকের হাসির খোরাক জোগায়, স্বজাতীয় দ্বীনি ভাইদের মনে কষ্টের জন্ম দেয়। সোশ্যাল মিডিয়া পাড়ার বাজারের মতো নয়, একটি অবাধ আন্তর্জাতিক বাজার।
এমন ঝগড়াটে লোকদের রাজনৈতিক লিডাররা পালন-পোষণ না করে এদেরকে রাজনীতি থেকে কিক আউট করে দেয়ার সৎ সাহস রাখেন, এমন লোক দরকার রাজনীতিতে।
একদল লোক থাকবে, যারা সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। কিন্তু রাজনীতির গলি-ঘুপচি বোঝেন। ইনসাফপূর্ণ চিন্তা, সবার ভালোটা অনুভবের, মন্দটা উপলব্ধির শক্তি থাকবে। এরাও রাজনীতির বাইরে নয়। কিন্তু বিভাজিত রাজনীতি থেকে দূরে। তাদের এই ভূমিকা নিজেদের জন্য প্রয়োজন মনে করতে হবে।
ইসলামের মৌলিক সিয়াসত এদের থেকে হওয়া বেশি আশাব্যঞ্জক। এদেরকে সুশীল বলে খোঁচা দেওয়ার সুযোগ নেই৷ তবে নিরপেক্ষতার ভান ধরে আড়ালে ইনসাফ বহির্ভূত তৎপরতা, কলুষতা উস্কে দেয়া দুমুখো নীতিরই বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। এটি পরিত্যাজ্য।
এখন আসি নির্বাচনে আমাদের ভূমিকা নিয়ে-
আলেম-উলামা যে যেখানে দাঁড়িয়েছেন, ব্যক্তিগত জীবনে সৎ, তাকওয়াবান, লেনদেনে স্বচ্ছ, এবং মাঠও সম্ভাবনাময়; সবার বিজয় কামনা করা ইনসাফের দাবি। এরা রাজনীতিতে স্টাবলিশড হলে ইসলামের কাজ হবে। জনগণের উপকার হবে৷
বিভিন্ন যুক্তি দেখিয়ে শুধু প্রতীক দেখে অযোগ্য প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা আপনি একজন আলেম হয়ে কতটুকু রাজনৈতিক সততার মধ্যে পড়ে চিন্তা করবেন।
ভোট হচ্ছে- সাক্ষ্য, প্রতিনিধি নিয়োগ ও সুপারিশের নাম। আল্লাহ তাআলা বলেন: ‘যে ভালো সুপারিশ করবে সে তার নেকীর ভাগী হবে। আর যে মন্দ সুপারিশ করবে সেও মন্দের হিস্যা পাবে।’ -সূরা নিসা: ৮৫
আপনি কার পক্ষে সুপারিশ করছেন মাথায় রাখতে হবে।
আপনি উভয় জোটের অন্তর্ভূক্ত কোনো দল করেন৷ আপনার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী জোটে আলেম ও যোগ্য প্রার্থী, অপরদিকে আপনার সমর্থিত জোটের প্রার্থী যোগ্যতার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ নয়, আপনার রাজনৈতিক সততা হচ্ছে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেয়া।
জোটের অজুহাত এখানে গৌণ। জোট কেন ভালো প্রার্থী দিলো না? সেই প্রশ্ন নিজ সমর্থিত জোটকে করেন। অযোগ্যকে সাপোর্ট দিতে আপনি/আমি বাধ্য নই। প্রচলিত রাজনীতির নিয়মেও নয়, বিবেকের বিচারেও নয়। চাপে থাকলে অন্তত নিরব থাকেন, তবুও যোগ্য, মুত্তাকী, আমানতদার আলেম প্রার্থীর বিরোধিতা করবেন না।