১১ জানুয়ারি, ২০২৬

একপক্ষীয় নির্বাচনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে: চরমোনাই পীর

একপক্ষীয় নির্বাচনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

 

তিনি বলেছেন, নির্বাচনের তারিখ যতই ঘনিয়ে আসছে, দেশের অভ্যন্তরীণ একটি দুষ্ট চক্রও প্রস্তুত হচ্ছে, যারা জনগণের মাঝে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশকে চরমভাবে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। তাই তারা এসব ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে সহিংসতার পথে হাঁটছে। আমরা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলব, আপনারা এই খুনি চক্রের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়ান। দ্রুত এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের ব্যবস্থা করুন।

 

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকালে খুলনার জামিয়া রশিদীয়া গোয়ালখালী মাদরাসা অডিটোরিয়ামে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগর ও জেলার উদ্যোগে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগর সভাপতি ও খুলনা ২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মুফতী আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে ও মহানগর সেক্রেটারি মুফতী ইমরান হোসাইনের পরিচালনায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হাফেজ মাওলানা অধ্যক্ষ আব্দুল আউয়াল ও খুলনা জেলা সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল্লাহ ইমরান।

 

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্য ও দলীয় অস্ত্রধারীরা এখনো ঘাঁপটি মেরে বসে আছে। জুলাই যুদ্ধের অগ্রসৈনিক শরীফ ওসমান হাদির হত্যকারীকে ধরতে পারেনি। দিনেদুপুরে গুলি করে হত্যাকারী কীভাবে পালিয়ে যায়? তারা জুলাই বিপ্লবীদের স্তব্ধ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছে। জুলাই বিপ্লবে হাজার হাজার মানুষের আত্মত্যাগ ও তিতিক্ষার বিনিময়ে বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা গঠন, নতুন রাষ্ট্রকাঠামো তৈরির পথে তারা বাধা তৈরি করতে চায়।

 

মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, লুট করা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তেমন তোড়জোড় দেখা যাচ্ছে না। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ভারসাম্য হারাচ্ছে। কোনো কোনো নেতা আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছেন, ভিআইপি প্রোটেকল পাচ্ছেন। বিভ্রান্তিকর জরিপের মাধ্যমে জনমতকে বিশেষ দিকে প্রভাবিত করা হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমরাও শোকাহত। কিন্তু এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি লক্ষ করা যাচ্ছে। প্রশাসন বিশেষ দিকে ঝুঁকে পড়েছে। এটা একপক্ষীয় নির্বাচনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।