১৪ জানুয়ারি, ২০২৬

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত অন্তত ২ হাজার
দীর্ঘ দুই সপ্তাহ ধরে চলা নজিরবিহীন বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। এই সহিংসতায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ প্রায় ২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ইরানের একজন সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। দেশজুড়ে চলা এই তীব্র গণ-আন্দোলনে প্রাণহানির সংখ্যা নিয়ে এই প্রথম তেহরানের পক্ষ থেকে এমন তথ্য জানানো হলো।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই ইরানি কর্মকর্তা দাবি করেন, বিক্ষোভকারী এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের এই মৃত্যুর পেছনে সন্ত্রাসীদের হাত রয়েছে। তবে নিহতদের মধ্যে সাধারণ নাগরিক কতজন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য কতজন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান তিনি বলেননি।
মূলত দেশের নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে এই আন্দোলনের সূত্রপাত। গত তিন বছরের মধ্যে এটিই ইরানি প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গত বছর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হওয়া সামরিক হামলার পর থেকে ইরান আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্ব এই আন্দোলন দমনে দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করছে। একদিকে তারা অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদকে যৌক্তিক বলে অভিহিত করছে, অন্যদিকে রাজপথে কঠোর দমন-পীড়ন অব্যাহত রেখেছে। বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। সরকারের দাবি, নামপরিচয়হীন কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সাধারণ মানুষের আন্দোলনকে ছিনতাই করে সহিংসতা ছড়াচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো আগে থেকেই কয়েকশ মানুষের মৃত্যু এবং হাজার হাজার মানুষের গ্রেপ্তারের আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছিল। তবে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন থাকায় এবং যোগাযোগের ওপর কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করায় প্রকৃত তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
রয়টার্স কর্তৃক যাচাইকৃত সাম্প্রতিক কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, রাতের অন্ধকারে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ চলছে। ভিডিওগুলোতে গুলির শব্দ এবং গাড়ি ও বিভিন্ন ভবনে অগ্নিসংযোগের দৃশ্য ফুটে উঠেছে।
Home R3