ইলমে কিরাআতের প্রচার ও প্রসারে নিবেদিত বিশ্ববিখ্যাত দ্বীনি প্রতিষ্ঠান আঞ্জুমানে তালীমুল কুরআন বাংলাদেশ-এর অধীনে ১৪৪৭ হিজরি ও ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের দেশব্যাপী সকল শাখায় আনুষ্ঠানিক সবক প্রদান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ১লা রমজান (১৯ ফেব্রুয়ারি) সিলেটের গোটাটিকরস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয় আঞ্জুমান কমপ্লেক্সে, বাদ জুহর কেন্দ্রীয়ভাবে এই সবক প্রদান কার্যক্রমের সূচনা হয়।
একই সময়ে প্রতিষ্ঠানের অধীনে সারা দেশে দুই হাজারেরও বেশি শাখা সেন্টারে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথকভাবে একযোগে সবক প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
আঞ্জুমানের কেন্দ্রীয় দফতরে সবক প্রদান অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন আঞ্জুমান সম্পাদক মাওলানা ক্বারী ইমদাদুল হক। তিনি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা শাইখুল কুররা (রাহ.)-এর অমূল্য অবদান স্মরণ করে বলেন, ‘শাইখুল কুররার নিজ হাতে গড়া এই দ্বীনি বাগান ইনশাআল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত সতেজ ও জারি থাকবে। আল্লাহর মেহেরবানিতে এই ইলমি খেদমত কখনো থমকে যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আঞ্জুমানের এই গৌরবময় অগ্রযাত্রায় দেশ ও বিদেশের অগণিত কুরআনপ্রেমী মানুষ সবসময় ছায়ার মতো পাশে থেকেছেন। তাঁদের অকুণ্ঠ সমর্থন ও সহযোগিতাই এই খেদমতগাহকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।’
আঞ্জুমানের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি ক্বারী শায়খ জালাল উদ্দীন গবিনপুরীর সভাপতিত্বে এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ক্বারী ইনাম বিন সিদ্দিক ও ক্বারী মাওলানা হিফজুর রহমানের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন ক্বারী মাওলানা আলী মর্তুজা বিন আমীন, ক্বারী মাওলানা ইহসান বিন সিদ্দিক, ক্বারী মাওলানা ওয়ালী রাহমান, ক্বারী মাওলানা আব্দুর রহীম আজমী, ক্বারী মাওলানা জুবায়ের আহমদ আনোয়ারী, ক্বারী শফিকুর রহমান, ক্বারী মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা কুরআনি শিক্ষার প্রসার ও সমাজ গঠনে আঞ্জুমানের অনন্য ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁরা শাইখুল কুররার মিশনকে আজীবন জারি রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে নতুন শিক্ষার্থীদের সবক প্রদান করেন আঞ্জুমান প্রধান কেন্দ্রের জিম্মাদার, আঞ্জুমান সহসভাপতি ক্বারী মাওলানা আবুল বাশার দা.বা. সবশেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর মঙ্গল কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন ক্বারী শায়খ জালাল উদ্দীন গবিনপুরী।
উল্লেখ্য, প্রখ্যাত আলেম, শাইখুল কুররা মাওলানা আলী আকবর সিদ্দীক (রাহ.) যে মহৎ লক্ষ্য নিয়ে এই কুরআন শিক্ষার কাফেলা শুরু করেছিলেন, সেই ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর হাজার হাজার ক্বারী এখান থেকে উচ্চতর সনদ গ্রহণ করছেন।