২ জানুয়ারি, ২০২৬

জাতীয়
১০১ আলেমের বিবৃতি

বায়তুল মোকাররমের খতিব, বরুণার পীরসহ অনেকই জানেন না

বায়তুল মোকাররমের খতিব, বরুণার পীরসহ অনেকই জানেন না

‘জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট শরিয়া-ভিত্তিক ‘ইসলামী জোট’ নয়: শীর্ষ ১০১ আলেমের বিবৃতি’ শিরোনামে গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে একটা বিবৃতি পাঠানো হয়। বিবৃতিটি প্রকাশের পর সারা দেশে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা।

বিবৃতিতে তারা বলেছেন, ‘ঈমান ও আক্বীদা বিসর্জন দিয়ে কেবল নির্বাচনী সমঝোতার নামে গঠিত কোনো জোটকে ‘ইসলামী জোট’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যায় না। ঈমান ও আক্বীদাই সর্বাগ্রে। ইসলামী জোটের নামে বিভ্রান্তি সৃষ্টি থেকে সাধারণ মুসলমান ও তাওহিদী জনতাকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

তথাকথিত এই নির্বাচনী সমঝোতাকে ‘ইসলামী জোট’ আখ্যা দিয়ে দেশ ও জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। এতে আরও বলা হয়, যারা ইসমতে আম্বিয়া স্বীকার করে না এবং সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-কে সত্যের মাপকাঠি হিসেবে মানে না, তাদের সঙ্গে ঐক্য গড়া মূলত ইসলামী চিন্তা-চেতনার সুস্পষ্ট খেলাফ। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের ঐক্য কখনোই ইসলামের ঐক্য হতে পারে না। অতএব, তাদের সঙ্গে ঐক্য করা মোটেও সমীচীন নয়।’

দাওয়াতুল ইহসান বাংলাদেশ নামে একটা অরাজনৈতিক সংগঠনটির প্রচার বিভাগীয় সম্পাদক মুফতি মাহমুদ হাসানের পাঠানো এই বিবৃতিতে দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরামের নাম ব্যবহার করা হলেও মূল ধারার শীর্ষ অনেক আলেমের অজ্ঞাতে, তাঁদের না জানিয়েই তাঁদের নামে এই বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতিটি প্রকাশের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকারমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক, বরেণ্য আলেমে দ্বীন, আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর মুফতি রশীদুর রহমান ফারুক (পীর সাহেব বরুণা), জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সাবেক খতিব আল্লামা উবায়দুল হক রাহ.-এর ছেলে, সিলেটের দরগাহে হজরত শাহজালাল রাহ. মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস ও শিক্ষাসচিব মাওলানা আতাউল হক জালালাবাদী,  সিলেট মহানগর জমিয়তের সহ-সভাপতি ও শামীমাবাদ মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ শামীম আহমদ ‘১০০ আলেমের বিবৃতি’তে নিজেদের নাম জড়িয়ে ‘অপপ্রচার’ করা হয়েছে বলে গতকালই অভিযোগ করেছেন।

তথ্য নিয়ে জানা গেছে, বিবৃতিদাতা ১০১ আলেমের তালিকায় থাকা অনেকেই এটা নিয়ে আপত্তি করেছেন। নিজেদের নাম না জানিয়ে ‘বিশেষ স্বার্থ’ আদায়ে এভাবে নাম ব্যবহার করাকে ইলমের খেয়ানত বলেছেন।

বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেকের নাম রয়েছে বিবৃতিতে ১৩ নম্বরে। তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী মাওলানা জহিরের সূত্রে জানা যায়, বিবৃতির ব্যাপারে খতিব সাহেব কিছুই জানেন না। তিনি বিবৃতিতে নামও দেননি।

২২ নম্বরে নাম থাকা মুফতি ফয়জুল্লাহ সন্দীপিও বলেছেন, এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান।

৪৯ নম্বরে নাম থাকা জামিয়া শরইয়্যাহ মালিবাগ, ঢাকার সিনিয়র মুহাদ্দিস, লেখক-অনুবাদ মাওলানা আহমদ মায়মুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদকের কাছে জানতে চান, ‘বিবৃতিটি কোথায় এবং কারা প্রকাশ করেছে?’

জাতীয় কয়েকটি দৈনিক ও অনলাইন প্রত্রিকার নাম বলা হলে সেই বিবৃতিতে ‘কী লেখা হয়েছে’ সেটা জানতে চান। তিনি আরও বলেন, এ রকম কোনো বিবৃতি তিনি দেননি বা তাতে কোনো স্বাক্ষরও করেননি। এমনকি কেউ তাঁর সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগও করেনি।

সিলেটের জামেয়া তাওয়াক্কুলিয়া রেঙ্গার মুহতামিম শায়খ মাওলানা মুহিউল ইসলাম বুরহানের নাম বিবৃতির তালিকায় ৩১ নম্বরে রয়েছে। তাঁর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। প্রতিবেদকের কাছ থেকেই প্রথম শুনলেন।’ কেউ তাঁর সাথে কোনো যোগাযোগ করেনি’ বলেও তিনি জানান।

৪৮ নম্বরে নাম থাকা মাওলানা আবু সাবের আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এটা যে ইসলামি জোট নয়, সেটা আমরা আগেই বলেছি। তবে এই বিবৃতিতে আমি নাম দিইনি।’

তালিকার ৩০ নম্বরে নাম থাকা সিলেটের দরগাহে হজরত শাহাজালাল রাহ. মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা শায়খ মাশুক উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও ‘এই প্রথম শুনেছেন’ বলে জানান। এ ব্যাপারে তাঁর সাথে যোগাযোগ করেনি’।

৭৮ নম্বরে নাম থাকা মুফতি আনওয়ারুল হক বলেন, ‘আমি কোনো আলেমের বিপক্ষে কখনোই বিবৃতি দিতে পারি না। এখানে আমার নাম না জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি এগুলোর সাথে একমত নই।’

বিবৃতিদাতা সংগঠন ‘দাওয়াতুল ইহসান বাংলাদেশ’-এর সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং দাওয়াতি সংগঠন। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও নারায়ণগঞ্জ ডি আই টি মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল আউয়াল সংগঠনটির সভাপতি; আর মহাসচিব হলেন হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশিরুল্লাহ।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট শরিয়া-ভিত্তিক কোনো ‘ইসলামী জোট’ নয় বলে দেশের শীর্ষ ১০১ আলেমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সম্প্রতি জামায়াতের নেতৃত্বে সমমনা ইসলামী জোট নামে একটি রাজনৈতিক জোট গঠিত হয়েছে, এ মর্মে আমরা অবগত হয়েছি। উম্মাহর দ্বীনি স্বার্থ সংরক্ষণ ও আক্বীদাগত স্বচ্ছতা বজায় রাখার দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা নিম্নোক্ত বক্তব্য পেশ করছি।

প্রথমত, কোনো রাজনৈতিক জোটের নামের সঙ্গে “ইসলাম” বা “ইসলামী” শব্দ যুক্ত হলেই তা “শরঈ” অর্থে ইসলামী রাজনৈতিক জোট হয়ে যায় না। ইসলামী রাজনৈতিক জোটের মৌলিক পরিচয় হলো—আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বিশুদ্ধ আক্বীদার প্রতি সুস্পষ্ট অঙ্গীকার, কুরআন ও সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীনের মানহাজ অনুসরণ এবং দ্বীনবিরোধী সব ধরনের আপস থেকে পূর্ণ দূরত্ব বজায় রাখা।’

বিবৃতিদাতারা আরও বলেন, ‘আমরা সুস্পষ্টভাবে জানাতে চাই যে, উক্ত “সমমনা ইসলামী জোট”-কে আমরা ইসলামী রাজনৈতিক জোট হিসেবে স্বীকৃতি দিই না। পাশাপাশি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অনুসারী আলেম-উলামা, দ্বীনি সংগঠনসমূহ এবং সচেতন মুসলিম জনসাধারণকে এ বিষয়ে সতর্ক, সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হক বুঝার, হকের ওপর অবিচল থাকার এবং বাতিল থেকে দূরে থাকার তাওফিক দান করুন।’

এ বিষয়ে সংগঠনটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করা হলে একজন ফোন রিসিভ করে বলেন, ‘১০১ জনের সবার সাথে অফিসিয়ালি যোগাযোগ করে, যথাযথ নিয়ম মেনেই বিবৃতিটি পাঠানো হয়েছে।’

পরে প্রতিকের পরিচয় তিনি জানতে চান। পরিচয় দিলে তিনি সুর পাল্টে ফেলেন। বলেন, ‘এই নম্বর কোথায় পেলেন?’ বলা হয়, ‘সংগঠনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া হয়েছে।’ তখন তিনি সংগঠনের সাধারণ কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন এবং এ ব্যাপারে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বলেন, সংগঠনের দায়িত্বশীলদের সাথে যেন কথা বলা হয়।

সংগঠনটির প্রচার বিভাগীয় সম্পাদক মুফতি মাহমুদ হাসানের নাম্বারে যোগাযোগ করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে হোয়াটসআপেও যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে সংগঠনটির মহাসচিব মাওলানা বশীল্লাহর সাথেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনিও ফোন রিসিভ করেননি।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও মিরপুর আরজাবাদ মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা বাহাউদ্দিন যাকারিয়ার ম্যাসেঞ্জারে বার্তা পাঠানো হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনিও কোনো জবাব দেননি।

বিবৃতির ৩৫ নম্বরে নাম থাকা ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজীর মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও ফোন রিসিভ করা হয়নি। পরে তাঁর ব্যক্তিহত সহকারী জুবায়ের বিন মহসিনের সাথে ম্যাসেঞ্জারে কথা বললে তিনিও সাড়া দেননি।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও আযাদ দ্বীনী এদারায়ে তালীম বাংলাদেশের মহাসচিব শায়খ মাওলানা আব্দুল বছীরের সাথে যোগাযোগ করা হলে ‘তাঁর সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে’ বলে স্বীকার করেছেন। তবে বিবৃতিটি কে বা কারা নিয়েছে, এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এমনকি বিবৃতির বিষয়েও তাঁর কোনো ‘জানাশোনা নেই’ এবং তিনি ‘খোঁজ নিয়ে জানবেন’ বলেছেন।

শীর্ষ ১০১ জন আলিমের তালিকায় নাম থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করে আরও যাঁরা অস্বীকার করেছেন; তাঁরা হলেন মাওলানা লুৎফুর রহমান ফরায়েজী, চট্টগ্রামের জিরির মাওলানা খুবাইব বিন তাইয়িব, চট্টগ্রামের মাওলানা সালাউদ্দিন নানুপুরী; ময়মনসিংহের আব্দুর রাহমান হাফেজ্জীও প্রকাশিত বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না। এমনকি এ বিষয়ে তাঁর কাছে কেউ আসেনি এবং মতামতও নেয়নি।

উল্লেখ্য, বিবৃতিদাতা ১০১ জন আলেমের মধ্যে প্রায় ৫০ জন বিএনপি জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সরাসরি দায়িত্বশীল। আবার কেউ কেউ তাদের ঘোষিত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী। তন্মধ্যে সংসদসদ্য প্রার্থী ছিলেন : ১৮ নম্বরে মুফতি নাজমুল হাসান কাসেমী, কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও নরসিংদী-১ আসনে জমিয়ত ঘোষিত প্রার্থী। ৩৫ নম্বরে মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-৫ আসনে জমিয়ত ঘোষিত প্রার্থী। ৪৭ নম্বরে মাওলানা শামসুদ্দীন; জামালপুর-১ আসনে জমিয়ত ঘোষিত প্রার্থী। ৪৮ নম্বরে মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমী; সভাপতি, দিনাজপুর জেলা জমিয়ত; দিনাজপুর-৩ আসনে জমিয়ত ঘোষিত প্রার্থী। ৪৯ নম্বরে মাওলানা কামরুজ্জামান, সভাপতি, ফরিদপুর জেলা জমিয়ত ও ফরিদপুর-৩ আসনে জমিয়ত ঘোষিত প্রার্থী। ৬০ নম্বরে মাওলানা জামিল আহমদ আনসারী; সহকারী মহাসচিব ও মৌলভীবাজার-৩ আসনে জমিয়ত ঘোষিত প্রার্থী। ৬৩ নম্বরে মাওলানা আব্দুল হক কাওসারী; যুগ্ম মহাসচিব ও পটুয়াখালী-১ আসনে জমিয়ত ঘোষিত প্রার্থী। ৬৫ নম্বরে মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী, সিলেট-১ আসনে জমিয়ত ঘোষিত প্রার্থী। ৬৭ নম্বরে মাওলানা  ড. শুয়াইব আহমদ; যুগ্মমহাসচিব ও সুনামগঞ্জ-২ আসনে জমিয়ত ঘোষিত প্রার্থী। ৭০ নম্বরে মাওলানা জিয়াউল হক কাসেমী; শরিয়তপুর-১ আসনে জমিয়ত ঘোষিত প্রার্থী। ৭১ নম্বরে মাওলানা মাহবুবুর রহমান; রাজবাড়ী-১ আসনে জমিয়ত ঘোষিত প্রার্থী। ৭২ নম্বরে মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী; কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও বি-বাড়িয়া-৩ আসনে জমিয়ত ঘোষিত প্রার্থী। ৭৬ নম্বরে মাওলানা হোসাইন আহমদ ইসহাকী, মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে জমিয়ত ঘোষিত প্রার্থী। ৭৮ নম্বরে মাওলানা কাজী জাবের কাসেমী; মাগুরা-১-এ জমিয়ত ঘোষিত প্রার্থী। ৯১ নম্বরে মাওলানা মতিউর রহমান গাজীপুরী, সহকারী মহাসচিব ও গাজীপুর-৫ আসনে জমিয়ত ঘোষিত প্রার্থী। ৯৪ নম্বরে ওলানা শরিফুল ইসলাম কাসেমী, টাঙ্গাইল-৫- আসনে জমিয়ত ঘোষিত প্রার্থী। ৯৮ নম্বরে মাওলানা শামসুল ইসলাম আরেফিন খান সাদী; মানিকগঞ্জ-২ আসনে জমিয়ত ঘোষিত প্রার্থী। ৯৯ নম্বরে মাওলানা আব্দুর রহিম কাসেমী, নরসিংদী-১ আসনে জমিয়ত ঘোষিত প্রার্থী। ১০০ নম্বরে মাওলানা শেখ মুজিবুর রহমান; পিরোজপুর-১ আসনে জমিয়ত ঘোষিত প্রার্থী। ১০১ নম্বরে মাওলানা হাকিম নুরুজ্জামান, হবিগঞ্জ-৪ আসনে জমিয়ত ঘোষিত প্রার্থী।