৫ জানুয়ারি, ২০২৬

আসন বণ্টন নিয়ে অসন্তুষ্ট ইসলামী আন্দোলন, একক নির্বাচনের ইঙ্গিত

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী সমঝোতা জোটে ভাঙনের সুর শোনা যাচ্ছে। নিজেদের জন্য বরাদ্দ করা আসন নিয়ে অসন্তুষ্ট ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে বের হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। দলটি ইতোমধ্যে এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ নতুন কয়েকটি দল জোটে যুক্ত হওয়ায় আসন বণ্টনের জটিলতা আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে প্রায় সব দলই আলাদাভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে থাকে। এমন বাস্তবতায় জামায়াতে ইসলামী সাতটি ইসলামী দলকে নিয়ে একটি সমঝোতা জোট গঠন করে। জোট গঠনের পর থেকে একাধিক জনসভা ও কর্মসূচিও পালন করা হয়। সর্বশেষ গত ডিসেম্বর মাসে তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই জোটে যোগ দেয়।

তবে আসন ভাগাভাগি নিয়ে জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদ এখন প্রকাশ্যে এসেছে। একাধিক দফা বৈঠক হলেও লিয়াজোঁ কমিটি এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের জন্য প্রস্তাবিত ৩৫টি আসনে সন্তুষ্ট নয়। এরই মধ্যে দলটি ২৭২টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। সমঝোতা না হলে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক বলেন, ‘যদি কোনো সমঝোতা না হয়, তাহলে আমাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা থাকবে না। আমরা পূর্ণ শক্তি নিয়ে নির্বাচনে লড়ব। তবে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে যদি সম্মানজনক সমঝোতা হয়, তাহলে আমরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করব। কিন্তু আমাদের নিশ্চিত হতে হবে—কোনো ‘ব্যাকডোর’ দিয়ে নতুন কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা হচ্ছে না।’

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী বলছে, আলোচনা এখনো চলমান এবং দ্রুতই একটি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব। কেউ এককভাবে নির্বাচন করলেও জোটের ওপর বড় ধরনের কোনো প্রভাব পড়বে না বলে দাবি তাদের।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ চূড়ান্তভাবে কোনো সমস্যা হবে না। বর্তমানে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলছে। এটি শেষ হলে পুরো বিষয়টি একটি স্পষ্ট রূপ নেবে। এর মধ্যেই আলোচনাও এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা আশাবাদী, দ্রুতই একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে।’

বর্তমানে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন এই জোটে এনসিপি, এবি পার্টিসহ মোট ১১টি দল রয়েছে। তবে শরিক দলগুলোর অভিযোগ, নতুন দল অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় আসন বণ্টনের সমীকরণ আরও জটিল হয়ে পড়েছে, যা জোটের ভেতরে অস্বস্তি বাড়াচ্ছে।

Home R3