৫ জানুয়ারি, ২০২৬

জাতীয়
জাতীয় সংসদ নির্বাচন

বৈধ প্রার্থী ১৮৪২ জন, মনোনয়নপত্র বাতিল ৭২৩ জনের

বৈধ প্রার্থী ১৮৪২ জন, মনোনয়নপত্র বাতিল ৭২৩ জনের
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে যাচাই বাছাই শেষে রিটার্নি কর্মকর্তা কর্তৃক বৈধ প্রার্থী হলেন ১ হাজার ৮৪২ জন। প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে ৭২৩ জনের।
প্রার্থিতা ফিরে পেতে তারা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে সোমবার (৫ জানুয়ারি) থেকে আপিলের সুযোগ পাবেন। এই আপিলের সুযোগ থাকবে আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। ইসির পুরো কমিশন বেঞ্চ বসে এই আপিলের শুনানি করবেন ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।
ইসি সারাদেশকে ১০টি নির্বাচনী অঞ্চলে ভাগ করে ইসি চত্বরে আপিল গ্রহণের জন্য পৃথক পৃথক ডেস্ক স্থাপন করেছে।
এবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনের বিপরীতে প্রাথমিকভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করে ৫১টি রাজনৈতিক দলের ২ হাজার ৯১ জন প্রার্থী এবং ৪৭৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ২ হাজার ৫৬৯টি মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে। ঢাকার ২০টি আসনে বৈধ প্রার্থী ১৬১ জন বা মোট আবেদনের ৬৭.৬৭ শতাংশ বলে ইসি থেকে জানা গেছে।
এদিকে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নামে তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়। তিনি মৃত্যুবরণ করায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১, বগুড়া-৭ ও দিনাজপুর-৩ আসনে তার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ছাড়াই কার্যক্রম শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন।

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্য থেকে ইসি জানায়, ইসির ১০টি অঞ্চলের মধ্যে রংপুর অঞ্চলের ৩৩টি আসনের বিপরীতে ২৭৯টি জমা পড়ে। বৈধ হয়েছে ২১৯টি এবং বাতিল হয়েছে ৫৯টি। রাজশাহী অঞ্চলের ৩৯টি আসনের বিপরীতে ২৬০টি জমা পড়ে। বৈধ হয়েছে ১৮৫টি এবং প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে ৭৪ জনের। খুলনা অঞ্চলের ৩৬টি আসনের বিপরীতে ২৭৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। এদের মধ্যে ১৯৬ জন বৈধ এবং ৭৯ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

বরিশাল অঞ্চলের ২১টি আসনের বিপরীতে ১৬২ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। এদের মধ্যে বৈধ প্রার্থী ১৩১ জন এবং বাতিল হয়েছে ৩১ জনের। ময়মনসিংহ অঞ্চলের ৩৮টি আসনের বিপরীতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন ৩১১ জন। আর প্রার্থিতা বৈধ হয়েছে ১৯৯ জনের। তবে বাতিল হয়েছে ১২২ জনের। ঢাকা অঞ্চলের ৪১টি আসনের বিপরীতে ৪৪২ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। কিন্তু এদের মধ্যে ৩০৯ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষিত হয়। আর ১৩৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ফরিদপুর অঞ্চলের ১৫টি আসনের বিপরীতে ১৪২ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। এদের মধ্যে ৯৬ জনের প্রার্থিতা বৈধ হয়। আর ৪৬ জনের বাতিল ঘোষণা করা হয়।

সিলেট অঞ্চলের ১৯টি আসনের বিপরীতে ১৪৬ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। ১১০ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৩৬ জনের বাতিল ঘোষণা করা হয়। কুমিল্লা অঞ্চলের ২৫টি আসনের বিপরীতে ৩৫৭ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। এদের মধ্যে ২৫৯ জনের বৈধ এবং ৯৭ জনের বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়। আর চট্টগ্রাম অঞ্চলের ২৩টি আসনের বিপরীতে ১৯৪ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। এদের মধ্যে ১৩৮ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৫৬ জনের বাতিল ঘোষণা করা হয়।

ইতোমধ্যে আপিলকারীদের জন্য ইসির পক্ষ থেকে সাতটি নির্দেশনা দিয়েছে। নির্দেশনাগুলো হলো— আপিল আবেদন কমিশনকে সম্বোধন করে স্মারকলিপি আকারে (নির্ধারিত ফরম্যাটে) দায়ের করতে হবে। আপিল দায়েরকালে মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের তারিখ, আপিলের কারণ সম্বলিত বিবৃতি এবং মনোনয়নপত্র বাতিল বা গ্রহণ আদেশের সত্যায়িত কপি দাখিল করতে হবে। আপিল আবেদনের একটি মূলকপিসহ সর্বমোট সাতটি কপি দাখিল করতে হবে। আপিল আবেদন নির্বাচন কমিশনের আপিল আবেদন গ্রহণ সংক্রান্ত কেন্দ্রে স্ব স্ব অঞ্চলের নির্ধারিত বুথে জমা দিতে হবে। আপিল আবেদন ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে দায়ের করতে হবে। আপিল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বা রায়ের কপির জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন দাখিল করতে হবে। ওই ফরমের নমুনা নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় বুথ থেকে সংগ্রহ করা যাবে। আর আপিল দায়েরকারী অথবা আপিল দায়েরকারীর পক্ষে মনোনীত ব্যক্তি আপিলের রায়ের কপি সংগ্রহ করতে পারবেন।

এদিকে, ইসির তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ৪ জানুয়ারি ২০২৬ ছিল। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি, আপিল নিষ্পত্তি ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি। আর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ ২১ জানুয়ারি। ওইদিন থেকেই প্রচারণায় নামবেন প্রার্থীরা। নির্বাচনী প্রচারণা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে।

ইসির তথ্যানুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ৩৩১ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর ২৭৬ জন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র ২৬৮ জন, জাতীয় পার্টি’র ২২৪ জন, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) ৫৩ জন, গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) ১০৪ জন, খেলাফত মজলিসের ৬৮ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৯৪ জন, ইনসানিয়াত বিপ্লব, বাংলাদেশ’র ৪২ জন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ২৪ জন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ৬৫ জন, গণফোরামের ২৩ জন, গণফ্রন্টের ৬, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (বাংলাদেশ ন্যাপ) একজন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) ৩১ জন, জাকের পার্টির ৭ জন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ৪১, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) ৩ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের ১১ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের ১৪ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ২৩ জন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র ৫ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (বিএমএল) ৭ জন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট) ২০ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) ৯ জন, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) ৮জন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ১৮ জন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) ২১ জন, জনতার দলের ২৩ জন, আমজনতার দলের ১৭ জন, বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টির (বিইপি) একজন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ৬ জন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের ২৭ জন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ’র ২২ জন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির ২ জন, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির (বিএমজেপি) ৯ জন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ১৯ জন, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) ১৩ জন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৪৪ জন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) ৩০ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মটরশ্রমিক দলের একজন এবং অন্যান্য একজন।

আপিল দায়েরের জন্য নির্বাচন ভবনে ১০টি বুথ থাকবে। বুথ নং-১ (খুলনা অঞ্চল) : জেলাগুলো হচ্ছে- মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা।

বুথ-২ (রাজশাহী অঞ্চল) : জয়পুরহাট, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা।

বুথ-৩ (রংপুর অঞ্চল) : পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা।

বুথ-৪ (চট্টগ্রাম অঞ্চল) : চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান।

বুথ-৫ (কুমিল্লা অঞ্চল) : ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর।

বুথ-৬ (সিলেট অঞ্চল) : সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ।

বুথ-৭ (ঢাকা অঞ্চল): টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ।

বুথ-৮ (ময়মনসিংহ অঞ্চল) : জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা।

বুথ-৯ (বরিশাল অঞ্চল) : বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর।

বুথ-১০ (ফরিদপুর অঞ্চল) : রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর।