Home » জামালপুর » ইউটিউব গোল্ডেন প্লে-বাটন অ্যাওয়ার্ড পেলেন জামালপুরের দাপুনিয়ার আব্দুল ওয়াহেদ উজ্জল

ইউটিউব গোল্ডেন প্লে-বাটন অ্যাওয়ার্ড পেলেন জামালপুরের দাপুনিয়ার আব্দুল ওয়াহেদ উজ্জল

 

এস.এম হোসাইন আছাদ,স্টাফ করসপনডেন্ট:

ইন্টারনেট দুনিয়ায় ভিডিও দেখার জনপ্রিয় মাধ্যম ইউটিউব। আর এই মাধ্যমেই সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে ইউটিউব গোল্ডেন প্লে-বাটন অ্যাওয়ার্ড পেলেন জামালপুরের মো. আব্দুল ওয়াহেদ (উজ্জল)। ইউটিউবে তার ধাঁধা ও এনিমেটেড গল্পের জনপ্রিয়তার স্বীকৃতিস্বরূপ ও ইউটিউব চ্যানেলটিতে ১০ লাখ সাবস্ক্রাইবারের মাইলফলক অতিক্রম করায় ‘গোল্ডেন প্লে-বাটন’ অ্যাওয়ার্ড দিয়েছে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ। সম্ভবত আব্দুল ওয়াহেদ উজ্জলই জামালপুর জেলার প্রথম ব্যক্তি যিনি ইউটিউব থেকে সিলভার প্লে-বাটন অ্যাওয়ার্ডসহ একটি গোল্ডেন প্লে-বাটন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।

জানাগেছে, ইউটিউবে “ধাঁধা Point” নামে একটি ধাধা ও এনিমেটেড গল্পের চ্যানেল প্রতিষ্ঠা করেন জামালপুর পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের দাপুনিয়া এলাকার মরহুম ডাঃ আব্দুল মালেক চৌধুরীর ছেলে মো. আব্দুল ওয়াহেদ উজ্জল। ধাঁধা Point চ্যানেলটিতে মাত্র ৪ মাসেই ০১ লক্ষ সাবস্ক্রাইবারের মাইলফলক পার করে বিগত বছরের ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে ইউটিউব থেকে সিলভার প্লে-বাটন অ্যাওয়ার্ড পান আব্দুল ওয়াহেদ। সিলভার প্লে-বাটন অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার মাত্র ৮ মাসের ব্যবধানেই চ্যানেলটি ১০ লক্ষ সাবস্ক্রাইবারের মাইলফলক পার করতে সক্ষম হওয়ায় স্বীকৃতি হিসেবে গোল্ডেন প্লে-বাটন অ্যাওয়ার্ড দিয়েছে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে মো. আব্দুল ওয়াহেদ উজ্জল বলেন- শু­রুতেই সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া আদায় করছি। তার অশেষ রহমতে আজ আমি এই জায়গায় আসতে পেরেছি। সব সময় মহান আল্লাহতায়ালার কাছে আমি চেয়েছি তিনি যেন আমাকে যে কোন বিষয়েই ধৈর্যধারণ করার পাশাপাশি সফল হওয়ার তৈাফিক দান করেন। মহান আল্লাহ তায়ালার দয়াতেই আমি ইউটিউবের গোল্ডেন প্লে-বাটন অ্যাওয়ার্ড অর্জন করতে পেরেছি। তারপরে বলবো ১০লাখ মানুষের কথা, যারা আমার চ্যানেলে Subscribe করে ১০লাখ সাবস্ক্রাইবারের একটা মাইলফলক আমাকে এনে দিয়েছে, তাদের প্রতি আমার মনের অন্তস্থল থেকে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা রইলো। এই ১০লাখ ব্যক্তির কারণেই আজ আমার হাতে ইউটিউবের পক্ষ থেকে এই গোল্ডেন প্লে-বাটন। এই অ্যাওয়ার্ড আমার জীবনে বিশাল বড় পাওয়া।

ইউটিউবে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটা সময় ছিল যখন ইউটিউব থেকে ইনকাম করা যায় এ কথাটা মানুষ বিশ্বাসই করত না। কিন্তু এখন দিন পাল্টাছে। এখন অনেকেই এটার মাধ্যমে ইনকাম করে থাকে। আমিও করছি। তবে তার জন্য চাই প্রচন্ড আগ্রহ, একাগ্রতা, ক্রিয়েটিভিটি। আমি ১৯৯৩ সালে জামালপুর রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয় হতে এস.এস.সি. পরীক্ষায় উর্ত্তিণ হই। তারপর সরকারী আশেক মাহমুদ কলেজ থেকে ১৯৯৫ সালে এইচ.এস.সি এবং একি কলেজ থেকে ১৯৯৯ সালে স্নাতক সর্ম্পুন করে ঢাকায় চলে যাই। ২০০০ সালে আমি একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে কম্পিউটার সিস্টেম এ্যাডমিনিস্ট্রেটর ও গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসাবে যোগদান করি। তারপর একে একে ১৬ বছর কেটে যায়। এর মধ্যে আমি আরো অন্যান্য বিষয়ের সাথে সাথে ২ডি ও ৩ডি এ্যানিমেশনও দক্ষতা অর্জন করি। আমার অনেক প্রজেক্ট ক্লাইন্টের গোপনীয়তার কারনে প্রকাশ করিনি। তবে তারমধ্যে ঢাকার ট্রাফিক সিস্টেম এর জন্য ইউলুপ ডিজাইনের এ্যানিমেশনটা প্রকাশিত হয় যেটা ছিল ঢাকার প্রয়াত মেয়র আনিসুর রহমান সারের একটি উদ্যোগ। যাই হোক ২০১৬ সালে আমি চাকরি ছেড়ে দেই এবং লোকাল ক্লাইন্টের কাজের পাশাপাশি ইউটিউব নিয়ে ঘাটাঘাটি শুরু­ করি। তারই প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের শেষ দিকে ঢাকায় আমি এই চ্যানেলটি তৈরি করি এবং জামালপুরে এসে পরি। এবং ঘরে বসেই এর কার্যক্রম করতে থাকি। এরপর ক্রিয়েটর হিসাবে কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে ইউটিউব থেকে সিলভার প্লে-বাটন অ্যাওয়ার্ড এবং ২০২০ সালের জানুয়ারী মাসে গোল্ডেন প্লে-বাটন অ্যাওয়ার্ড অর্জন করি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন যাতে আল্লাহ আমাকে আরো অনেকদুর যাওয়ার তৈাফিক দান করেন।