৯ জানুয়ারি, ২০২৬

ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় বাংলাদেশ

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার অবস্থানে অনড় রয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল বুধবার আইন ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। বৈঠকে ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ক্রীড়া উপদেষ্টা নিজেও।

মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে আমিনুল বলেন, শুধু ক্রিকেটারদের নয়, কর্মকর্তা, সাংবাদিক, স্পন্সর ও ক্রিকেটপ্রেমীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও বিসিবির কাছে বড় উদ্বেগের কারণ।

তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়দের বাইরে যে বড় একটি জনগোষ্ঠী আছে, আমাদের সাংবাদিক, স্পন্সর ও ক্রিকেটপ্রেমী—অনেকেই খেলা দেখতে যাবেন। সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ক্রিকেট বোর্ডের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ কারণেই আমরা সরকারের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করছি। যেকোনো বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে আমাদের গভর্নমেন্ট অর্ডার (জিও) প্রয়োজন হয়। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আমরা আমাদের অধিকারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।’

ভারতে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের যুক্তি তুলে ধরে আমিনুল প্রশ্ন করেন, মুস্তাফিজুর রহমানের মতো একজন আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটারের নিরাপত্তা যদি নিশ্চিত করা না যায়, তবে পুরো দল ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন হবেন না কেন? তাঁর কথা, ‘যখন মুস্তাফিজের মতো একজন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং তাকে বাদ দিতে হয়, তখন একটি দল ও একটি দেশের জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা তো আরো বড় বিষয়। এটি অত্যন্ত যৌক্তিক প্রশ্ন।’

অন্য দেশগুলো অংশ নিলে বাংলাদেশের আপত্তি কতটা গ্রহণযোগ্য হবে—এমন প্রশ্নের জবাবেও নিজের অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন বিসিবি সভাপতি।

তিনি বলেন, ‘আমরা বাস্তব ও যৌক্তিক বিষয় নিয়েই কথা বলছি। অতীতে বহু বিশ্বকাপে খেলেছি, কিন্তু কখনো এমন নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে হয়নি।’ এ অবস্থার মধ্যেই গত পরশু রাতে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে ভারতে খেলতে না গেলে বাংলাদেশের পয়েন্ট কেটে নেবে আইসিসি। তবে বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে আমিনুল বলেন, ‘একটি অপপ্রচার চলছে যে আইসিসি জানিয়েছে শ্রীলঙ্কায় খেলা নেওয়া সম্ভব নয়। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা খবর।

আইসিসির সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে। তারা আমাদের ইস্যুগুলো জানতে চেয়েছে, আমরা জানিয়েছি। এখন লিখিতভাবে বিষয়গুলো পাঠাব।’

 

বিশ্বকাপে অংশ না নিলে সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কেও বিসিবি সচেতন বলে জানান আমিনুল। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারত পাকিস্তানে যায়নি এবং পাকিস্তানও এবারের বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না। তাঁর মন্তব্য, ‘নিরাপত্তার প্রশ্নে যদি বিশ্বকাপ নিয়েও আপস করতে হয়, তাহলে বাংলাদেশ তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকবে। আমরা একটি গ্রহণযোগ্য ও সঠিক সমাধানের আশা করছি।’

একই সুর শোনা গেছে আইন ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, ‘আমরা আজ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি এবং সবাই একমত হয়েছি যে বাংলাদেশ কষ্ট করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। আমরা ক্রিকেটপাগল জাতি, আমরা অবশ্যই খেলতে চাই। কিন্তু আমাদের জাতির মর্যাদা, আমাদের ক্রিকেটার, দর্শক ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিনিময়ে আমরা বিশ্বকাপ খেলতে চাই না।’

Home R3