১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মুফতি আমির হামজাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কুষ্টিয়া-৩ (সদর উপজেলা) আসনে জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থী আমির হামজাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। জরিমানা অনাদায়ে তাকে ছয় দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে এক সরকারি কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

রাশেদ আহমেদ নামের এক সাধারণ ভোটারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে আমির হামজার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাকে হ্যান্ডবিল, ব্যানার ও ফেস্টুন ব্যবহারে সতর্ক করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম দায়রা জজ মো. আরিফুল ইসলাম সামগ্রিক বিষয়টি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

এদিকে, একই আসনে বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের অভিযোগে সরকারি কর্মকর্তা ডা. হোসেন ইমামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। তিনি কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হিসেবে কর্মরত।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) কুষ্টিয়া-৩ (সদর উপজেলা) আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম দায়রা জজ মো. আরিফুল ইসলাম এ নোটিশে স্বাক্ষর করেন। নোটিশে আগামী বুধবার বিকেল ৩টার মধ্যে ডা. হোসেন ইমামকে তদন্ত কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ অনুযায়ী অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকা অবস্থায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনায় প্রাথমিকভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি ও সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. হোসেন ইমাম বলেন, ‘বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো নোটিশ হাতে পাইনি।’

অন্যদিকে, বিএনপি প্রার্থী জাকির হোসেন সরকার বলেন, ‘একদিন আরএমওর এলাকায় গণসংযোগে গিয়েছিলাম। ওইদিন তার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। এর বাইরে তিনি আমার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেননি।’