১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

দুনিয়ার সব অনিষ্ট থেকে বাঁচতে যেসব আমল নিয়মিত করবেন

মানুষের জীবন সুখ–দুঃখ, নিরাপত্তা–অনিরাপত্তার মিশ্রণে গঠিত। কখন বিপদ আসে, কিভাবে আসে— তা কেউ আগাম বলতে পারে না। তবে একজন মুমিনের জন্য বিপদের সময় হতাশ হওয়া নয়; বরং ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহ তাআলার কাছে সাহায্য চাওয়াই হলো ইমানের দাবি। ইসলাম আমাদের শুধু বিপদে করণীয়ই শেখায় না, বরং বিপদ আসার আগেই আত্মরক্ষার আমলও শিক্ষা দেয়। কুরআন ও হাদিসে দুনিয়ার নানা অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকার জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমলের নির্দেশনা এসেছে।

বিপদের প্রথম মুহূর্তে ধৈর্যের গুরুত্ব

বিপদ–আপদ কখন আসবে, তা কেউ জানে না। তবে সেই মুহূর্তে ধৈর্য ধারণের পাশাপাশি মহান রবের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য। বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে, বিপদের প্রথম মুহূর্তে ধৈর্য ধারণ করাই প্রকৃত ধৈর্য। হাদিসে এসেছে—

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «إِنَّمَا الصَّبْرُ عِنْدَ الصَّدْمَةِ الْأُولَى»

হজরত আনাস ইবনু মালিক (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রকৃত ধৈর্য হলো বিপদের প্রথম আঘাতের সময়। (মুসলিম ২০১১)

ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আল্লাহর সঙ্গ

ধৈর্য ধারণকারীদের জন্য আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে রয়েছে বিশেষ সুসংবাদ। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ ۚ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ

‘হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে রয়েছেন।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৫৩)

দুনিয়ার অনিষ্ট থেকে রক্ষার বিশেষ আমল

রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতকে শুধু আদেশ–নিষেধই দেননি, বরং দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে অনিষ্ট, বিপদ ও অকল্যাণ থেকে নিরাপদ থাকার কার্যকর আমলও শিখিয়েছেন। হাদিসে এসেছে—

হজরত আবদুল্লাহ ইবনু খুবাইব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—

একবার ঘুটঘুটে অন্ধকার ও বৃষ্টিমুখর রাতে আমাদের নামাজ আদায় করানোর জন্য আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর সন্ধানে বের হলাম। আমি তাঁর কাছে পৌঁছালে তিনি বললেন, ‘বল।’ কিন্তু আমি কিছু বললাম না। তিনি আবার বললেন, ‘বল।’ তৃতীয়বার বলার পর আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘আমি কী বলব?’ তখন তিনি বললেন—

قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ، وَالْمُعَوِّذَتَيْنِ، حِينَ تُمْسِي وَحِينَ تُصْبِحُ، ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، تَكْفِيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ

‘তুমি সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার করে ‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’ (সুরা ইখলাস) এবং ‘আল-মু‘আওবিযাতাইন’ (সুরা ফালাক ও সুরা নাস) পাঠ করবে। এটি সব ধরনের অনিষ্ট থেকে তোমার জন্য যথেষ্ট হবে।’ (আবু দাউদ ৫০৮২, তিরমিজি ৩৫৭৫)

অনিষ্ট থেকে বাঁচতে আরও যে আমলগুলো করবেন

১. সকাল–সন্ধ্যার দোয়া

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ، فِي الْأَرْضِ، وَلَا فِي السَّمَاءِ، وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

‘আল্লাহর নামে যাঁর নামের বরকতে আসমান ও যমীনের কোনো বস্তুই ক্ষতি করতে পারে না, তিনি সর্বশ্রোতা ও মহাজ্ঞানী।’ (আবু দাউদ ৫০৮৮, তিরমিজি ৩৩৮৮)

২. আয়াতুল কুরসি পাঠ

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রাতে আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, আল্লাহ তার জন্য একজন প্রহরী নিযুক্ত করেন।’ (বুখারি ২৩১১)

৩. বেশি বেশি ইসতেগফার

‘ইসতেগফার বিপদ দূর করে এবং রিজিকের দ্বার খুলে দেয়।’ (ইবনু মাজাহ ৩৮১৯)

দুনিয়ার জীবন অনিশ্চয়তায় ভরা। তবে একজন মুমিন কখনো অসহায় নয়। আল্লাহ তাআলা কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে আমাদের হাতে এমন সব আমল তুলে দিয়েছেন, যা নিয়মিত পালন করলে দুনিয়ার অনিষ্ট, বিপদ ও অকল্যাণ থেকে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। শর্ত একটাই—আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে নিয়মিত আমল করা এবং বিপদের প্রথম মুহূর্তেই ধৈর্যের পরিচয় দেওয়া। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এসব আমলের তৌফিক দান করুন। আমিন।