জেফ্রি এপস্টেইন-সংক্রান্ত একটি কংগ্রেসনাল তদন্তে সাক্ষ্য দিতে রাজি হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও তার স্ত্রী সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এই প্রেসিডেন্টের একজন মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন।
সাবেক প্রেসিডেন্টের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ অ্যাঞ্জেল ইউরেনা সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেখানে থাকবেন। সবার জন্য প্রযোজ্য এমন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে তারা আগ্রহী।’
ইউরেনা তার ওই পোস্টের সঙ্গে প্রতিনিধি পরিষদের তদারকি কমিটির একটি বিবৃতিও যুক্ত করেন। সেখানে ক্লিনটন দম্পতির বিরুদ্ধে ‘আইনসম্মত সমন অমান্য করার’ এবং ‘বিশেষ সুবিধা চেয়ে অবমাননার অভিযোগ এড়ানোর চেষ্টা’ করার অভিযোগ আনা হয়। কমিটি বলেছে, ‘ক্লিনটনরা আইনের ঊর্ধ্বে নন।’
এর আগে গত সপ্তাহে তদারকি কমিটি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে ক্লিনটন দম্পতিকে কংগ্রেস অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করার সুপারিশ করে।
ক্লিনটন দম্পতি তদন্তে সহযোগিতার প্রস্তাব দিলেও সরাসরি হাজির হয়ে সাক্ষ্য দিতে রাজি হননি। তাদের দাবি ছিল, এই তদন্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং দীর্ঘদিন এপস্টেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এমন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রক্ষা করার লক্ষ্যেই এটি পরিচালিত হচ্ছে।
প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন ক্লিনটনদের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও পরিকল্পিত অবমাননার ভোটাভুটি বাতিল করা হবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি। তিনি বলেন, ‘এটি একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। আমরা আশা করি, সবাই কংগ্রেসের সমনের প্রতি সম্মান দেখাবে।’
ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, প্রতিনিধি পরিষদের এই তদন্ত প্রকৃত তদারকির বদলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের আক্রমণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাদের দাবি, এপস্টেইনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্পকে এখনো সাক্ষ্য দিতে ডাকা হয়নি।
এপস্টেইন-সংক্রান্ত তদন্ত নথি প্রকাশ ঠেকাতে ট্রাম্প কয়েক মাস ধরে চেষ্টা চালিয়েছিলেন। তবে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ আন্দোলনের সমর্থক ও কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতার চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত তিনি মামলাসংক্রান্ত বিপুল নথি প্রকাশের নির্দেশ দেন।
বিল ক্লিনটন দায়িত্ব ছাড়ার পর ২০০০-এর দশকের শুরুতে কয়েকবার এপস্টেইনের বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন। পরে তিনি এই সম্পর্কের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন এবং বলেন, এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না।
হিলারি ক্লিনটন জানিয়েছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে তার উল্লেখযোগ্য কোনো যোগাযোগ ছিল না। তিনি কখনো এপস্টেইনের বিমানে ওঠেননি এবং তার ব্যক্তিগত দ্বীপেও যাননি।
এপস্টেইন কেলেঙ্কারি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এখনো দীর্ঘ ছায়া ফেলছে। এর প্রভাব যুক্তরাজ্যেও পড়েছে। এই ঘটনায় জড়িয়েছেন যুক্তরাজ্যের সাবেক রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু এবং যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসন।
যুক্তরাজ্যের পুলিশ জানিয়েছে, ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে ওঠা অসদাচরণের অভিযোগগুলো তারা পর্যালোচনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথিতে ম্যান্ডেলসনের নাম পাঁচ হাজারের বেশি বার উল্লেখ রয়েছে।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে ম্যান্ডেলসনকে বরখাস্ত করা হয়। প্রকাশ্যে আসা ই–মেইলে দেখা যায়, তিনি এপস্টেইনকে ‘আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু’ বলে সম্বোধন করেছিলেন এবং কারাগার থেকে দ্রুত মুক্তির বিষয়ে তাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন।
ম্যান্ডেলসন এপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং কোনো ধরনের অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সূত্র: আল জাজিরা।