২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

সিলেট-৩ আসনে রিকশা নাকি ধানের শীষ, কে এগিয়ে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনে বইছে তীব্র নির্বাচনী হাওয়া। এই আসনে লড়াই মূলত দুই মেরুর দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। একদিকে আছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন আল্লামা নূর উদ্দীন গহরপুরী রাহ.-এর ছেলে মাওলানা হাফেজ মুসলেহ উদ্দীন রাজু (রিকশা প্রতীক)। অন্যদিকে আছেন বিএনপি-জমিয়ত জোটের প্রার্থী, যুক্তরাজ্য প্রবাসী এম এ মালেক (ধানের শীষ প্রতীক)।

মাঠ পর্যায়ের সাধারণ ভোটার এবং স্থানীয় সচেতন মহলের সাথে কথা বলে এক বিশেষ জনমত চিত্র উঠে এসেছে।

মাঠ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজুর বড় শক্তি তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্য। আল্লামা গহরপুরী রাহ.-এর প্রতি এ অঞ্চলের মানুষের গভীর শ্রদ্ধা থাকায় ধর্মপ্রাণ ভোটারদের একটি বিশাল অংশ রিকশা প্রতীকের দিকে ঝুঁকে আছেন। বিশেষ করে তরুণ ভোটার এবং কওমি ঘরানার অনুসারীদের মধ্যে রাজুর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে।

অন্যদিকে, এম এ মালেকের প্রধান শক্তি হচ্ছে বিএনপির শক্তিশালী ভোট ব্যাংক। যদিও তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন; কিন্তু ধানের শীষের দলীয় ইমেজ এবং স্থানীয় বিএনপির একাংশের নিরলস কাজ তাঁকে রেসে টিকিয়ে রেখেছে।

ভোটারদের মনে বড় একটি প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘প্রবাস বনাম দেশ’। এম এ মালেক গত ১৯ বছর দেশের বাইরে ছিলেন। এ বিসয়টা ভোটারদের মধ্যে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অনেক ভোটার সংশয়ে আছেন, নির্বাচনের পর তাঁকে এলাকায় পাওয়া যাবে কি না। বিপরীতে মাওলানা রাজু শুরু থেকেই মাঠে থাকায় এবং নিয়মিত গণসংযোগ করায় ভোটারদের কাছে বেশ একটু সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন।

মাওলানা রাজু ১১ দলীয় জোটের সমর্থন পাওয়ায় তাঁর অবস্থান অনেকটাই সুসংহত হয়েছে। সিলেট-৩ আসনে ইসলামি ভোটগুলো রাজুর বাক্সে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। তবে বিএনপি-জমিয়ত জোটের প্রার্থী হিসেবে এম এ মালেক যদি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের পূর্ণ সমর্থন ও বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে ফেলতে পারেন, তবে তাঁর ভোট সংখ্যায় ব্যাপক উল্লম্ফন ঘটতে পারে।

মাঠের চিত্র বলছে, মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু তাঁর রিকশা প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে এম এ মালেকের ধানের শীষ প্রতীকের ঐতিহ্যবাহী ভোট ব্যাংক যদি শেষ মুহূর্তে ঐক্যবদ্ধ হয়, তবে লড়াই হবে সমানে সমান। সাধারণ ভোটারদের ভাষ্যমতে, আগামী কয়েক দিনের প্রচারণার কৌশলই নির্ধারণ করে দেবে শেষ হাসি কে হাসবেন।

Home R3