সিলেট-৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত ও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হাফিজ মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজুর সমর্থনে এক বিশাল জনসংযোগ ও প্রচার মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কুচাই, সারপিং, পশ্চিমবাগ, হাজির বাজারে গণসংযোগ শেষে বাদ এশা শ্রীরামপুর বাজারে বিশাল গণমিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় রিকশার প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা রাজু সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন।
মিছিলপরবর্তী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু বলেন, ‘নির্বাচিত হলে আমি কোনো নির্দিষ্ট দলের এমপি হব না। দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জের প্রতিটি মানুষের সেবক হওয়াই আমার লক্ষ্য। আপনাদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে সিলেট-৩ আসনকে সাজাব। অবহেলিত এই জনপদকে নতুন করে গড়ে তুলব।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে হামলা, মামলা বা জুলুম করার যে সংস্কৃতি দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে, ইনশাআল্লাহ আমি বিজয়ী হলে সেই অপসংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করে দেব।’
সবাইকে সাথে নিয়ে কাজ করবেন জানিয়ে মাওলানা রাজু আরও বলেন, ‘আমার কাছে সরকারি বরাদ্দ বিতরণে কোনো দলীয় ভেদাভেদ থাকবে না। যেখানে যখন প্রয়োজন, সেখানকার উন্নয়নে আমি নজর রাখব। শিক্ষক, সুশীল সমাজ, উলামায়ে কেরাম এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় আমি সবসময় সোচ্চার থাকব। ভিন্ন দল ও মতের সবাইকে সাথে নিয়ে আমি এই জনপদকে একটি শান্তিময় ও আদর্শ এলাকা হিসেবে গড়ে তুলব।’
শিক্ষা ও কারিগরি উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মাওলানা রাজু বলেন, ‘আমি বিজয়ী হলে দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ক্লাসরুমের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হবে। বিশেষ করে মাদরাসা, জেনারেল শিক্ষার মধ্যে বিদ্যমান দূরত্ব কমিয়ে আনব।’
প্রচার মিছিলে সিলেট জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আহবায়ক মাওলানা ফারুক আহমদ, যুক্তরাজ্য প্রবাসী আবুল কালাম, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জিয়াউর রহমান জিয়া, ৪২ নং ওয়ার্ড সেক্রেটারি মিজানুর রহমান ছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এনসিপি, খেলাফত মজলিসসহ ১১ দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বালাগঞ্জের মোরার বাজারে বাদ মাগরিব গণসংযোগ শেষে এক প্রচার মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে রিকশা মার্কার কর্মী-সমর্থকসহ এলাকার সর্বস্তরের হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন।
স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত প্রচার মিছিলটি মোরার বাজারের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো প্রদক্ষিণ করে। এতে ১১ দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন।
এছাড়াও একই দিনে রিকশা মার্কার সমর্থনে বরইকান্দি, জালালপুর ৪ নং ওয়ার্ডের টাকিরমহল এবং ৭ নং ওয়ার্ডের রায়খাইল গ্রামেও পৃথক পৃথক গণসংযোগ করা হয়।
