২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

তৃণমূলে রিক্সা প্রতীকের শক্ত অবস্থান, চমক দেখাচ্ছেন মাওলানা রাজু

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনে নির্বাচনী চিত্র দ্রুতই পরিবর্তন হচ্ছে। নির্বাচনি এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলেও রিক্সা প্রতীকের গণসংযোগ ও প্রচারণা নজর কাড়ছে সবার। বিশেষত তরুণ ভোটারদের কাছে রিক্সা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা রাজুর ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ, জনমত জরিপ এবং ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে স্পষ্ট হয়ে উঠছে, এই আসনে রিক্সা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় বেশ এগিয়ে আছেন।

স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু একজন সৎ, নীতিবান ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নেতা হিসেবে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে পেরেছেন।

বিশেষ করে আলেম-ওলামা, ধর্মপ্রাণ মানুষ এবং সাধারণ খেটে খাওয়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে তাকে ঘিরে বাড়ছে আশার আলো। তার ব্যাপারে ভোটারদের মন্তব্য হচ্ছে, মাওলানা রাজু আল্লামা গহরপুরীর সুযোগ্য সন্তান হিসেবে তার বিশেষ পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এছাড়া তার ব্যক্তিগত সততা, উন্নয়ন ভাবনা ও সুখ-দুঃখে মানুষের পাশে থাকার মানসিকতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

সিলেট-৩ আসনের বিভিন্ন এলাকায় রিক্সা প্রতীকের গণসংযোগ, পথসভা ও নির্বাচনি জনসভাগুলোতে প্রচুর উপস্থিতি হয়ে থাকে। গতকাল (২৭ জানুয়ারি) মঙ্গলবার বালাগঞ্জে রিক্সা মার্কার সমর্থনের আয়োজিত জনসভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের উপস্থিতি মাওলানা রাজুর পক্ষে নতুন জোয়ার তৈরি করেছে।

ভোটাররা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের গতানুগতিক রাজনৈতিক ধারার পরিবর্তে একজন নীতিবান ও জনবান্ধব আলেম প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হলে এলাকায় ইনসাফভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।

তরুণ ভোটারদের মধ্যেও মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজুকে নিয়ে বিশেষ আগ্রহ ও উৎসাহ লক্ষ করা যাচ্ছে। তারা বলছেন, রাজুর নেতৃত্বে একটি পরিচ্ছন্ন ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতির সূচনা হতে পারে।

ওসমানীনগর উপজেলার ভোটার মাওলানা শাহ আনহার বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকার রাজনীতি দেখছি। মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজুর মধ্যে যে সততা রয়েছে, তা একজন জনপ্রতিনিধির জন্য অত্যন্ত জরুরি। তাই রিক্সা প্রতীকেই আমরা ভোট দেব।

বোয়ালজুড় নুরপুর গ্রামের প্রবীণ আলেম মাওলানা নোমান আহমদ বলেন, রাজু সাহেব সাধারণ মানুষের খুব কাছের একজন মানুষ। তিনি আল্লামা গহরপুরীর সাহেবযাদা। আমরা চাই, মাওলানা রাজু সাহেব সংসদে আমাদের প্রতিনিদিত্ব করুন। রিক্সা প্রতীকই আমাদের পছন্দ।

দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার এলাকার ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দীন বলেন, ব্যবসায়ী হিসেবে আমরা চাই স্থিতিশীলতা, ন্যায্যতা ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ। মাওলানা রাজু যেভাবে কথা বলেন এবং কাজের প্রতিশ্রুতি দেন, তাতে আস্থা পাওয়া যায়।

স্থানীয় শিক্ষক তাজুল ইসলাম বলেন, মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু আমাদের আসনে তরুণ প্রজন্মের জন্য একজন আদর্শ প্রতিনিধি হতে পারেন।

ফেঞ্চুগঞ্জের তরুণ ভোটার আতিকুর রহমান বলেন, আমরা তরুণরা পরিবর্তন চাই। শুধু স্লোগান নয়, বাস্তব ও সৎ নেতৃত্ব দরকার। তাই এবার আমরা মাওলানা রাজুর রিক্সা প্রতীকেই ভোট দেবো।

নির্বাচনে যদি বিজয়ী হন, তাহলে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি কতটা পূরণ করবেন, এ বিষয়ে জানতে চাইলে রিক্সা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু বলেন, রাজনীতি ও ক্ষমতা আমার কাছে কোনো ভোগের বিষয় নয়; এটি জনগণের আমানত। রিক্সা প্রতীক বিজয়ী হলে এই এলাকায় প্রতারণা ও মিথ্যার রাজনীতি আর চলবে না। ইনশাআল্লাহ, জনগণের দেওয়া প্রতিটি আস্থার মর্যাদা রক্ষা করা হবে। আমি তাদেরকে যেসব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, ইনশআল্লাহ, সব পূরণ করার চেষ্টা করব। এটাই আমার লক্ষ্য।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিলেট-৩ আসনে রিক্সা প্রতীকের এই অগ্রগতি আগামী নির্বাচনে নতুন কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে। তরুণ কর্মীবান্ধব নেতা হওয়ায় সাধারণ মানুষ সহজেই মাওলানা রাজুর কাছে ভিড়তে পারে। তার এই বিশ্বস্থতা ও কর্মস্পৃহাই তাকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়, তাহলে এই আসনে রিক্সা প্রতীক বড় ধরনের চমক দেখাতে পারে।

মাঠ জরিপ ও নির্বাচনি কার্যক্রম দেখে সিলেট-৩ আসনের বর্তমান বাস্তবতা বলছে, জনসমর্থনের জোয়ারে ভর করে মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু হয়তো খুব সহজেই নির্বাচনি বৈতরণী পেরিয়ে যাবেন। বস্তুত, সময়ই বলে দেবে, এই জনআকাঙ্ক্ষা শেষ পর্যন্ত কীভাবে প্রতিফলিত হয় ব্যালট বাক্সে।