২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

সিলেট-৫ আসনে জনমত জরিপে এগিয়ে মুফতি আবুল হাসান

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনে নির্বাচনী মেরুকরণ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। কানাইঘাট থেকে জকিগঞ্জের সবখানেই এখন ভোটারদের প্রধান আলোচনার বিষয় দেওয়াল ঘড়ি। বিভিন্ন এলাকার সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মুফতি মাওলানা আবুল হাসান তার ক্লিন ইমেজ এবং সুসংগঠিত প্রচারণার মাধ্যমে বেশ এগিয়ে রয়েছেন।

মাঠপর্যায়ের জনমত জরিপ এবং সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, এই আসনে বিজয়ের দৌড়ে বর্তমানে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী মুফতি মাওলানা আবুল হাসান (দেওয়াল ঘড়ি)। বিপরীতে, একসময়ের শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী খেজুর গাছ প্রতীকে মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশীদের অবস্থান তুলনামূলকভাবে অনেকটাই ম্লান হয়ে পড়েছে।

মাঠপর্যায়ে ভোটারদের সাথে আলাপকালে উঠে এসেছে তাদের প্রত্যাশা ও পছন্দের কথা। জকিগঞ্জের আব্দুল হামিদ নামে এক তরুণ ভোটার বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। এবার এমন একজনকে চাই, যিনি আমাদের অধিকার নিয়ে কথা বলবেন। মুফতি আবুল হাসান একজন সৎ মানুষ, তার মাধ্যমে আমরা পরিবর্তনের আশা দেখছি।

কানাইঘাটের রাজাগঞ্জ এলাকার আরেক তরুণ মারুফ আহমদের মতে, তরুণ প্রজন্ম এবার যোগ্য নেতৃত্ব চায়। কানাইঘাটে দেওয়াল ঘড়ির যে জোয়ার তৈরি হয়েছে, তা আগে কখনও দেখিনি।

চতুলের শিব্বির আহমদ নামে একজন জানান, মুফতি আবুল হাসানের গণসংযোগ ও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার কাছে অন্য প্রার্থীরা পাত্তা পাচ্ছেন না। আমাদের ভোট এবার ইনসাফ কায়েমের পক্ষে।

মামরখানি এলাকার জাকির হোসাইন বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুন সাহেব আগে আলোচনায় থাকলেও এখন মানুষ তাকে নিয়ে খুব একটা ভাবছে না। জকিগঞ্জের মামরখানি থেকে শুরু করে সদর পর্যন্ত সবাই এখন দেওয়াল ঘড়ির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ।

দেওয়াল ঘড়ির প্রার্থী মুফতি আবুল হাসানের পক্ষে ১১ দলীয় জোটের সুসংগঠিত ভোটব্যাংক রয়েছে। তাছাড়া আলেম সমাজের ঐক্য তাকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন তিনি।

অন্যদিকে জমিয়তের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বিএনপি জোটের মানোনয়নে প্রচারণা চালালেও স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা প্রকাশ্যে তার পক্ষে থাকলেও ভেতরে ভেতরে ক্ষোভে ফুঁসছেন। বারবার জোটের নামে দলীয় প্রার্থী না থাকায় স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার। ফলে ১২ তারিখে এর প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া মাওলানা ফারুকের কর্মী-সমর্থকদের অনলাইনে হিংসাত্মক মনোভাবও সাধারণ ভোটারদের মাঝে তার গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

বিপরীতে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত মামুনুর রশীদ মামুন স্বতন্ত্র হওয়ায় দলীয় ভোটারদের সমর্থন হারিয়েছেন তিনি। ব্যক্তিগত কিছু অনুসারী থাকলেও জয়ের লড়াইয়ে তার অবস্থান বর্তমানে প্রান্তিক।

১২ ফেব্রুয়ারি একটি নীরব ভোট বিপ্লব ঘটতে যাচ্ছে। কানাইঘাট ও জকিগঞ্জের সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, মুফতি আবুল হাসানের মাধ্যমেই এই অঞ্চলের উন্নয়ন ও মানুষের মুখের হাসি ফিরে আসবে।

Home R3