বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের শীর্ষ নেতা শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, পরাজিত শক্তি চব্বিশের জুলাই বিপ্লবকে নস্যাৎ করার জন্য নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারা জুলাই বিপ্লবকে একাত্তরের মুখোমুখি দাঁড় করাতে চায়। কিন্তু বাংলার তাওহিদি জনতা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। ইনশাআল্লাহ, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে দেশের মানুষ এই ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেবে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে সিলেটের বালাগঞ্জ ডি এন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সিলেট-৩ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজুর সমর্থনে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আল্লামা মামুনুল হক জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে আরও বলেন, ৪৭, ৭১ এবং ২৪-এর বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। সেই লক্ষ্যেই ইসলামি ও দেশপ্রেমিক শক্তিগুলো আজ ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য গঠন করেছে। আমরা ক্ষমতায় গেলে জীবন দিয়ে হলেও জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করব।
গণভোট ও জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়িত করতে হলে এবং গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তকে সার্থক করতে হলে গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত করতে হবে। যারা না এর পক্ষে কাজ করছে, তারা মূলত মুনাফেকি করছে।
সিলেট-৩ আসনের প্রার্থী মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজুকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু শায়খুল হাদিস আল্লামা নুর উদ্দিন গহরপুরী রাহ.-এর সুযোগ্য উত্তরসূরি। তাকে বিজয়ী করার অর্থ হলো হক ও ইনসাফকে বিজয়ী করা। সিলেটের মাটি ইসলামপন্থিদের ঘাঁটি এবং এই মাটি থেকেই ইনসাফ কায়েমের লড়াই শুরু হবে।
মাওলানা মামুনুল হক আরও বলেন, আল্লামা গহরপুরী রহ.-এর সম্মানে তাঁর উত্তরসূরি মাওলানা রাজুকে রিক্সা প্রতীকে সমর্থন জানিয়ে জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছেন। এই ঐক্য আরও সুদৃঢ় করতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা লোকমান আহমদ কেন্দ্রীয় নির্দেশে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে মাওলানা রাজুর প্রতি পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন। তাঁর এই ত্যাগ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা বাংলাদেশকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদক মুক্ত করতে চাই। কোনো আধিপত্যবাদী শক্তি যেন আমাদের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানতে না পারে, সেজন্য রিক্সা প্রতীকের আলেমদের সংসদে পাঠাতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, এই জোটের বিজয় মানেই হলো ভারতীয় আগ্রাসন রুখে দেওয়া। সিলেটের ৬টি আসনেই রিক্সা ও জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে আলেম-উলামা ও ইসলামপ্রিয় জনতাকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকতে হবে।
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা রেজাউল করিম জালালী ও মাওলানা কোরবান আলী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তাফাজ্জুল হুসাইন মিয়াঁজি, কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আব্দুল আজিজ, জামায়াতের সিলেট বিভাগীয় টিম সদস্য হাফিজ আব্দুল হাই হারুন ও হাফেজ কুতুব উদ্দিন এবং এনসিপি নেতা ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ আল হোসাইন, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা জামায়াত আমীর সাব্বির আহমদ, বালাগঞ্জ উপজেলা আমীর মুহাম্মদ আব্দুল জলিল, উপজেলা সেক্রেটারি এডভোকেট রহমত আলী, উপজেলা ছাত্রশিবির সভাপতি আবিদ আলী এবং যুববিভাগ সভাপতি মারুফ আহমদ লিয়াকত।
এছাড়াও খেলাফত মজলিস সিলেট জেলা সহ-সভাপতি মাওলানা আলী আসগর, বালাগঞ্জ থানা সভাপতি মাওলানা মিসবাহুর রহমান মিসলু ও সেক্রেটারি মাওলানা মীম হুসাইন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা ইকবাল হুসাইন, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফখরুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাওলানা মুতাসিম বিল্লাহ জালালি এবং বালাগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মাওলানা আসাদুজ্জামান আসাদ।
সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল মালেক। প্রধান বক্তা হিসেবে মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু ভোটারদের কাছে দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন।