বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর ও ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ‘দেশের প্রতিটি মানুষের মুখে এখন পরিবর্তনের আওয়াজ। তারা দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের অবসান চায়, পুরাতন কাউকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। ইনশাআল্লাহ, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য ক্ষমতায় আসবে।’
মঙ্গলবার বিকেলে সিলেটের গোলাপগঞ্জের ঢাকাদক্ষিণ বাজারের চৌমুহনীতে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সমর্থনে এই সভার আয়োজন করা হয়।
মাওলানা মামুনুল হক আরও বলেন, ‘দেশের মানুষ এখন ইসলামপন্থীদের দেশ পরিচালনার সুযোগ দিতে চায়। কারণ এই দেশ শাহজালালের দেশ। আগামী দিনে এখানে কেবল ‘বাংলাদেশপন্থীদের’ রাজনীতি চলবে। আজকের এই জনসভা প্রমাণ করছে গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের মাটি এখন দাঁড়িয়ে পাল্লার দুর্ভেদ্য ঘাঁটি।’
জুলাই বিপ্লবের চেতনা রক্ষায় গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়লাভ করলে গণঅভ্যুত্থান সার্থক হবে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হবে। তাই দেশ ও জাতির স্বার্থে সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম এক চাঞ্চল্যকর ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্য বিজয়ী হলে সিলেটবাসী আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী পেতে পারে। আমীর-এ-জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে সিলেটের ৬টি আসনেই জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে হবে এবং ভারতীয় আগ্রাসন রুখে দিতে হবে।’
জোটের প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে নির্বাচিত হলে গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারকে একটি আধুনিক, উন্নত ও নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন।
গোলাপগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর মাস্টার আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসেন নিয়াজী, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর ফখরুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিবউল্লাহ দস্তগীর ও এহতেশামুল আলম জাকারিয়া।