দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে যখন নানামুখী বিতর্ক তুঙ্গে, তখন নিজের স্বতন্ত্র ও অবিচল অবস্থানের জানান দিলেন বরুণার পীর মুফতি রশিদুর রহমান ফারুক বর্ণভী। প্রথাগত রাজনীতি থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চললেও দেশ ও জাতির ক্রান্তিলগ্নে তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থান আলেমসমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গতকাল সিলেটের একটি মাহফিলে তিনি প্রকাশ্যে তিনজন প্রার্থীর নাম উল্লেখ করে বিশেষভাবে দুআ করেন। সাধারণত পীর সাহেবদের পক্ষ থেকে নির্বাচনী মাঠে এভাবে নির্দিষ্ট প্রার্থীর নাম ধরে দুআ করার ঘটনা বিরল। তাঁর দুআপ্রাপ্ত তিন প্রার্থীর মধ্যে একজন বিএনপি মনোনীত এবং বাকি দুজন ১০ দলীয় ঐক্য মনোনীত প্রার্থী।
যাদের জন্য দুআ করলেন:
সিলেট-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
সিলেট-৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত ও ১১ দলীয় ঐক্যের রিক্সা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু।
মৌলভীবাজার-৪ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত ও ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী মাওলানা নুরে আলম হামিদী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্দিষ্ট কোনো দলের অনুরাগী না হয়েও যোগ্য ও সৎ ব্যক্তির প্রতি সমর্থন জানানো এবং ভিন্ন ভিন্ন জোটের প্রার্থীর জন্য দুআ করার মাধ্যমে মুফতি বর্ণভী একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি বুঝাতে চেয়েছেন, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে সার্বভৌমত্ব ও ইসলামের প্রশ্নে বড় রাজনৈতিক পক্ষগুলোর কেউই এককভাবে হুমকি নয়। বরং আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে দেশ সঠিক পথেই এগোবে—যদি সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়।
উল্লেখ্য যে, মাসখানেক আগে যখন ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন হলে সংবিধানে বিসমিল্লাহ থাকবে না বা অনৈতিকতার প্রসার ঘটবে—এমন প্রোপাগাণ্ডায় সাধারণ জনগণ ও উলামা মাশায়েখরা বিভ্রান্ত ছিলেন, তখন বরুণার বার্ষিক ইজলাস থেকে তিনি প্রথম উচ্চকণ্ঠে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
বিএনপি ও সমমনা কিছু পক্ষ যখন কৌশলে ‘না’ ভোটের পক্ষে জনমত গড়ছিল, তখন তাঁর এই সাহসী ঘোষণা আলেম সমাজের দ্বিধা কাটাতে বড় ভূমিকা রাখে।
ব্যক্তিগত জীবনে ফটো ও ভিডিওগ্রাফের বিষয়ে চরম কঠোরতা এবং অরাজনৈতিক ভাবমূর্তি বজায় রাখলেও, নির্বাচনের এই সন্ধিক্ষণে তাঁর এমন সুনির্দিষ্ট ও দূরদর্শী অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ ভোটাররা। এটি কেবল রাজনৈতিক সমর্থন নয়, বরং জাতীয় সংহতি ও যোগ্য নেতৃত্ব বাছাইয়ের একটি বড় ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।