২০ জানুয়ারি, ২০২৬

রাজনীতির মাঠে জামায়াতের নতুন সমীকরণ
বিচারযোগ্য নয়। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক আকাশে জমে থাকা অনেক কালো মেঘ সরিয়ে জামায়াত আবার আলোর মুখ দেখেছে।
এই বিজয়ের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—
১. বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি কার্যকর বিরোধী শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করতে পারা।
২. কর্নেল অলি ও আখতারুজ্জামানের মতো মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণ ও জোটের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ভূমিকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের একটি রাজনৈতিক জবাব দেওয়া।
৩. একটি ইসলামী দল হওয়া সত্ত্বেও দেশের প্রতিনিধিত্বকারী আলেম–ওলামাদের অস্বীকৃতির কারণে যে ধর্মীয় অনাস্থা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকাংশে দূর করতে সক্ষম হওয়া।
৪. জুলাইয়ের প্রতিনিধিত্বকারী ছাত্রদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ–স্বপ্নচারীদের সমর্থন অর্জন করা।
তবে এখানেই সবচেয়ে বড় সতর্কতা—
যদি তৃণমূল পর্যায়ে অতিরিক্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, অথবা ঐক্য বিনষ্টকারী ও দায়সারাভাবে নির্বাচনি অ্যাক্টিভিজম পরিচালিত হয়, তাহলে এই অর্জিত রাজনৈতিক পুঁজি দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী দিনের বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতের অবস্থান জাতীয় পার্টির মতো সীমাবদ্ধ ও শুধু সাংগঠনিক হয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
সব মিলিয়ে বলা যায়, আসনসংখ্যার হিসাবের বাইরেও জামায়াত এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিকভাবে অনেক দূর এগিয়েছে; তবে সেই অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে হলে সংযম, ঐক্য ও কৌশলগত বিচক্ষণতার কোনো বিকল্প।