ভোটের মাঠে বাংলাদেশ এখন দুই মেরুতে বিভক্ত। একদিকে আছে বিএনপি, তাদের সাথে ছোট কয়েকটি দল; আরেক দিকে আলোচিত প্রায় সবগুলো রাজনৈতিক দল।
এই মেরুতে জামায়াত যদিও বড় দল, কিন্তু বিএনপির মতো প্রভাবশালী না হবার কারণে নির্বাচনে তার মিত্র অন্য দলগুলোকে অনেকগুলো আসন ছেড়ে দিতে হচ্ছে।
এটা জামায়াতের তৃণমূল নেতাকর্মীর জন্য মেনে নেওয়া কষ্টকর, এবং এর যৌক্তিক কারণও আছে। কেননা ৫ আগস্টের পরপরই জামায়াত ৩০০ আসনের প্রায় সবগুলোতেই তাদের প্রার্থী ঠিক করে ফেলেছিল। সে অনুযায়ী প্রত্যেক প্রার্থীও যার যার আসনে জানতোড় কাজে নেমে পড়েন। প্রতিটা আসনেই ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত তারা নির্বাচনী কমিটি পর্যন্ত গঠন করে ফেলেছিল। রাতদিন এক করে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা যার যার প্রার্থীর জন্য প্রচারণা চালিয়েছেন। ফলে, কমবেশি অধিকাংশ আসনেই তাদের অবস্থা ভালো।
এই অবস্থায় হুট করেই নতুন সিদ্ধান্ত মেনে জোটের অন্য প্রার্থীর জন্য আসন ছেড়ে দেওয়া কষ্টকরই বটে। অনেক জায়গায় তারা এই কষ্ট হজম করে উদারতার পরিচয় দিয়েছেন। কিছু কিছু আসনে সেটা পেরে উঠছেন না।
আমাদের মৌলভীবাজার-৩ আসনটি সেই না পেরে ওঠার একটি। এখানে জামায়াতের ক্যান্ডিডেট জনাব আব্দুল মান্নান। অত্যন্ত সৎ খোদাভীরু ও জনদরদি ব্যক্তিত্ব। হাসিনার আমলে কয়েক বার রাজনগর উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়াই করেছেন।
অপরদিকে একই আসনে জামায়াতের সমঝোতা শরিক দল খেলাফত মজলিসের (দেওয়াল ঘড়ি) প্রার্থী মাওলানা আহমদ বিলাল। তিনিও হাসিনার আমলে রাজনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়েছেন। তারও আগে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে বিজয়ীও হয়েছিলেন।
দুজনই রাজনগরের মানুষ এবং জনপরিসরে উভয়েরই গ্রহণযোগ্যতা আছে। উপরন্তু আহমদ বিলাল তাঁর দল খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং দল বিবেচনায় হেভিওয়েট প্রার্থী। ফলে সমঝোতায় যে ১০টি আসন দলটি পেয়েছে, তার মধ্যে আহমদ বিলালেরটা গুরুত্বপূর্ণ। দল থেকে সেভাবেই তাঁর আসনটি চেয়ে আনা হয়েছে।
কিন্তু ৫ আগস্টের পর থেকে জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা আব্দুল মান্নান সাহেবের জন্য প্রচুর পরিশ্রম করার কারণে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। কষ্ট থেকে পুঞ্জীভূত হচ্ছে ক্ষোভ। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশও অনলাইনে গত কয়েকদিন ধরে ঘটছে।
এই ক্ষোভ ও কষ্ট যদি এখনই প্রশমিত করা না যায়, তাহলে এর প্রভাব পুরা জোটের উপর এমনকি সামগ্রিক নির্বাচনী ফলাফলের উপর পড়তে বাধ্য।
মাওলানা আহমদ বিলালের দল যেহেতু মাত্র ১০টি আসন পেয়েছে এবং এই ১০টির হেভিওয়েট প্রথম ২-৩ জনের মধ্যে তিনি আছেন, ফলে তাঁর তো মায়নাস হবারও সুযোগ নেই। তাই তাঁর দল এবং প্রার্থী হিসেবে তাঁর নিজেরও অবশ্যকরণীয় হলো, নির্বাচনী কাজে আব্দুল মান্নান সাহেবকে তাঁর অন্যতম প্রধান পরামর্শক ও মুরব্বি হিসেবে গ্রহণ করা এবং তাঁর নেতাকর্মীকে এই ব্যাপারে আশ্বস্ত করা যে, নির্বাচনে জিতলে তো অবশ্যই, হারলেও, মৌলভীবাজার-রাজনগরের উন্নয়নে আব্দুল মান্নান সাহেবকে সাথে নিয়েই তিনি এগিয়ে যাবেন।
জামায়াত-নেতাকর্মীরও উচিত মনঃকষ্ট ভুলে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে জোটশরিক প্রার্থী আহমদ বিলালকে কিভাবে জিতিয়ে আনা যায়, সে ব্যাপারে কাজে ঝাপিয়ে পড়া।
দ্বীনি সংগঠন হিসেবে উভয় দলের নেতাকর্মীই তো ভাই ভাই। আসন-সমঝোতা বলেন আর জোট বলেন, এই ভ্রাতৃত্বের তাগিদেই তো ১০ দল এক হয়েছে!
সবাই মিলে মিশে কাজ করলে ঘুটি ঘুরে যাবার সম্ভাবনাই প্রবল, ইনশাআল্লাহ। কারণ, মানুষ পরিবর্তন চায়। মুখে কিছু বলছে না, ১২ তারিখের ব্যালটে, ইনশাআল্লাহ, বলবে। এবং মনে রাখতে হবে, একটি আসনের জন্যও ক্ষমতার মসনদ ঘুরে যেতে পারে।