বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট শরিয়াভিত্তিক কোনো ‘ইসলামী জোট’ নয় বলে দেশের শীর্ষ ১০১ আলেম বিবৃতি দিয়েছেন।
বিবৃতিতে তারা বলেছেন, ঈমান ও আক্বীদা বিসর্জন দিয়ে কেবল নির্বাচনী সমঝোতার নামে গঠিত কোনো জোটকে ‘ইসলামী জোট’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যায় না। ঈমান ও আক্বীদাই সর্বাগ্রে। ইসলামী জোটের নামে বিভ্রান্তি সৃষ্টি থেকে সাধারণ মুসলমান ও তাওহিদী জনতাকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
তথাকথিত এই নির্বাচনী সমঝোতাকে ‘ইসলামী জোট’ আখ্যা দিয়ে দেশ ও জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়, যারা ইসমতে আম্বিয়া স্বীকার করে না এবং সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-কে সত্যের মাপকাঠি হিসেবে মানে না, তাদের সঙ্গে ঐক্য গড়া মূলত ইসলামী চিন্তা-চেতনার সুস্পষ্ট খেলাফ। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের ঐক্য কখনোই ইসলামের ঐক্য হতে পারে না। অতএব, তাদের সঙ্গে ঐক্য করা মোটেও সমীচীন নয়।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো দাওয়াতুল ইহসান বাংলাদেশের এক বিবৃতিতে দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরাম এসব কথা বলেন।
সংগঠনটির প্রচার বিভাগীয় সম্পাদক মুফতি মাহমুদ হাসানের পাঠানো বিবৃতিতে আরও বলা হয়—সম্প্রতি জামায়াতের নেতৃত্বে সমমনা ইসলামী জোট নামে একটি রাজনৈতিক জোট গঠিত হয়েছে— এ মর্মে আমরা অবগত হয়েছি। উম্মাহর দ্বীনি স্বার্থ সংরক্ষণ ও আক্বীদাগত স্বচ্ছতা বজায় রাখার দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা নিম্নোক্ত বক্তব্য পেশ করছি।
প্রথমত, কোনো রাজনৈতিক জোটের নামের সঙ্গে “ইসলাম” বা “ইসলামী” শব্দ যুক্ত হলেই তা ‘‘শরঈ’’ অর্থে ইসলামী রাজনৈতিক জোট হয়ে যায় না। ইসলামী রাজনৈতিক জোটের মৌলিক পরিচয় হলো, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বিশুদ্ধ আক্বীদার প্রতি সুস্পষ্ট অঙ্গীকার, কুরআন ও সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীনের মানহাজ অনুসরণ এবং দ্বীনবিরোধী সব ধরনের আপস থেকে পূর্ণ দূরত্ব বজায় রাখা।
দ্বিতীয়ত, দেওবন্দী আক্বীদা ও মানহাজে বিশ্বাসী কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আক্বীদার পরিপন্থী চিন্তা-চেতনা, মতাদর্শ ও দর্শন লালনকারী কোনো দলের সঙ্গে ঐক্য গঠন করতে পারে না। এ ধরনের ঐক্য আক্বীদাগত বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে, সাধারণ মুসলমানদের মাঝে ভুল বার্তা পৌঁছে দেয় এবং দ্বীনের মৌলিক অবস্থানকে দুর্বল করে।
তৃতীয়ত, ইসলামী রাজনীতি কখনোই কেবল ক্ষমতা অর্জনের কৌশল হতে পারে না। বরং তা হতে হবে দ্বীন রক্ষা, শরঈ মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা, বাতিল চিন্তাধারার মোকাবিলা এবং উম্মাহর ঈমান ও আক্বীদা সংরক্ষণের একটি দায়িত্বশীল মাধ্যম। আক্বীদাগত প্রশ্নে আপস করে গঠিত কোনো জোটকে ইসলামী রাজনীতির প্রতিনিধিত্বকারী বলা যায় না।
অতএব, আমরা সুস্পষ্টভাবে জানাতে চাই যে, উক্ত ‘সমমনা ইসলামী জোট’-কে আমরা ইসলামী রাজনৈতিক জোট হিসেবে স্বীকৃতি দিই না। পাশাপাশি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অনুসারী আলেম-উলামা, দ্বীনি সংগঠনসমূহ এবং সচেতন মুসলিম জনসাধারণকে এ বিষয়ে সতর্ক, সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হক বুঝার, হকের ওপর অবিচল থাকার এবং বাতিল থেকে দূরে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।
বিবৃতি দাতা শীর্ষ আলেমরা হলেন:
১. আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী, মহাপরিচালক, বাবুনগর মাদরাসা, চট্টগ্রাম। ২. আল্লামা খলিল আহমাদ কুরাইশী, মহাপরিচালক, হাটহাজারী মাদ্রাসা। ৩. আল্লামা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর। ৪. শায়েখ জিয়াউদ্দিন, আঙ্গুরা মোহাম্মদপুর, সিলেট। ৫. অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী, পীর সাহেব দেওনা, গাজীপুর। ৬. মুফতি রশিদুর রহমান ফারুক পীর সাহেব বরুনা, মৌলভীবাজার। ৭. মাওলানা নুরুল ইসলাম খান, সুনামগঞ্জ। ৮. আল্লামা আব্দুল আউয়াল, পীর সাহেব, ডিআইটি, নারায়নগঞ্জ। ৯. আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান। ১০. আল্লামা নূরুল ইসলাম ওলীপুরী।
১১. আল্লামা শেখ আহমদ, শাইখুল হাদিস হাটহাজারী মাদ্রাসা। ১২. মুফতি জসিম উদ্দিন, হাটহাজারী। ১৩. মুফতি আব্দুল মালেক, খতিব, বাইতুল মোকাররম। ১৪. মুফতি কেফায়েত উল্লাহ, হাটহাজারী। ১৫. মাওলানা সালাউদ্দিন নানুপুরী। ১৬. মাওলানা আবু তাহের নদবী, মহাপরিচালক- পটিয়া মাদ্রাসা। ১৭. মাওলানা মুফতি মুবারকুল্লাহ, মুহতামিম- জামিয়া ইউনুছিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ১৮. মুফতি নাজমুল হাসান কাসেমী, উত্তরা, ঢাকা। ১৯. শাইখুল হাদীস আবুল হাসান আলাউদ্দীন, বারিধারা। মাওলানা আব্দুল হক, ময়মনসিংহ। ২০. মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া, মুহতামিম- আরজাবাদ মাদ্রাসা, ঢাকা।
২১. মাওলানা ইউনুছ আহমদ, রংপুর। ২২. মুফতি ফয়জুল্লাহ্ সন্দীপি, মুহতামিম মাদানী নগর মাদ্রাসা। ২৩. মাওলানা আব্দুর রহমান হাফেজ্জী, ময়মনসিংহ। ২৪. মাওলানা নুরুল হক বট্টগ্রাম, কুমিল্লা। ২৫. শায়েখ আলিমুদ্দিন দুর্লভপুরী কানাইঘাট, সিলেট। ২৬. মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদী, ময়মনসিংহ। ২৭. মাওলানা আব্দুল কাদের, নারায়ণগঞ্জ। ২৮. মাওলানা রশিদ আহমদ শাব্বির, কিশোরগঞ্জ। ২৯. মাওলানা আনাস, ভোলা। ৩০. শায়েখ মা‘শুক উদ্দিন, মুহতামিম, দরগাহ মাদ্রাসা, সিলেট।
৩১. মাওলানা মহিউল ইসলাম বুরহান, রেঙ্গা সিলেট। ৩২. মাওলানা মুস্তাক আহমাদ, খুলনা। ৩৩. মাওলানা আনওয়ারুল করীম যশোরী। ৩৪. মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী। ৩৫. মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, লালবাগ, ঢাকা। ৩৬. মুফতী মাসঊদুল করীম, টঙ্গী, ঢাকা। ৩৭. মুফতি বশিরুল্লাহ, মাদানীনগর মাদ্রাসা, ঢাকা। ৩৮. মাওলানা খুবাইব বিন তৈয়ব, মহাপরিচালক, জিরি মাদ্রাসা। ৩৯. মাওলানা মাহবুবুল্লাহ কাসেমী, ময়মনসিংহ। ৪০. মাওলানা আব্দুল বছির, সুনামগঞ্জ।
৪১. মাওলানা নিজামুদ্দীন, নোয়াখালী। ৪২. মাওলানা আবুল বাসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা। ৪৩. মুফতি জাবের কাসেমী, বারিধারা। ৪৪. মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ কাসেমী, বারিধারা। ৪৫. মাওলানা শামসুদ্দীন, জামালপুর। ৪৬. মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমী, দিনাজপুর। ৪৭. মাওলানা কামরুজ্জামান, ফরিদপুর। ৪৮. মাওলানা আবু সাবের আব্দুল্লাহ,ঢাকা। ৪৯. মাওলানা আহমদ মায়মুন, ঢাকা। ৫০. মাওলানা যাইনুল আবিদীন, ঢাকা।
৫১. মুফতি সালাউদ্দিন, দিলু রোড ঢাকা। ৫২. মাওলানা মফিজুর রহমান, নেত্রকোনা। ৫৩. মাওলানা মুস্তাকীম বিল্লাহ হামিদী। ৫৪. মাওলানা আলী আজম, বি-বাড়িয়া। ৫৫. মাওলানা বোরহান উদ্দিন কাসেমী বি বাড়িয়া। ৫৬. মাওলানা গাজী ইয়াকুব উসমানী বি-বাড়িয়া। ৫৭. মাওলানা মাসরুরুল হক, মুহতামিম, উমেদনগর মাদ্রাসা, হবিগঞ্জ। ৫৮. মাওলানা জামিল আহমদ আনসারী, মৌলভীবাজার। ৫৯. মাওলানা আতাউল হক জালালাবাদী, দরগা মাদ্রাসা সিলেট। ৬০. মাওলানা সানাউল্লাহ মাহমুদী, বরিশাল।
৬১. মাওলানা আব্দুল হক কাওসারী, পটুয়াখালী। ৬১. মাওলানা সৈয়দ শামীম আহমদ, সিলেট। ৬২. মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী, সিলেট। ৬৩. মাওলানা এমদাদুল্লাহ শায়খে কাতিয়া, সিলেট। ৬৪. মাওলানা ড. শুয়াইব আহমদ,দিরাই, সুনামগঞ্জ। ৬৫. মাওলানা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান, বাহাদুরপুর, মাদারীপুর। ৬৬. মাওলানা তাহের কাসেমী, নেত্রকোনা। ৬৭. মাওলানা জিয়াউল হক কাসেমী, শরিয়তপুর। ৬৮. মাওলানা মাহবুবুর রহমান, রাজবাড়ী। ৬৯. মাওলানা জাবের তাজাল্লা, মাগুরা। ৭০. মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী।
৭১. মুফতি আরিফ বিল্লাহ কাসেমী, ঝিনাইদহ। ৭২. মুফতি হোসাইন বিন ওয়াক্কাস, মনিরামপুর, যশোর। ৭৩. মাওলানা উবায়দুল্লাহ কাসেমী, মুন্সিগঞ্জ। ৭৪. মাওলানা হোসাইন আহমদ ইসহাকী, মুন্সিগঞ্জ। ৭৫. মাওলানা আলী আকবর কাসেমী, সাভার। ৭৬. মাওলানা কাজী জাবের কাসেমী তাজাল্লা, মাগুরা। ৭৭. মাওলানা আমিনুল ইসলাম কাসেমী, সাভার। ৭৮. মুফতী আনওয়ারুল হক, লালবাগ, ঢাকা। ৭৯. মাওলানা মাহমুদুল হাসান, নারায়ণগঞ্জ। ৮০. মাওলানা জুবায়ের আহমদ, লালবাগ ঢাকা।
৮১. মুফতী মোস্তাফিজুর রহমান, পোরশা নওগাঁ। ৮২. মাওলানা ইউনুস, মুন্সিগঞ্জ। ৮৩. মাওলানা খলিলুর রহমান নওগাঁ। ৮৪. মাওলানা জাকির হোসাইন কাসেমী, নারায়ণগঞ্জ। ৮৫. মুফতী আলমগীর, পাতিয়ালা, মুন্সিগঞ্জ। ৮৬. মুফতি লুৎফর রহমান ফরায়জী। ৮৭. মুফতি রিদওয়ান রফিকী, গাজিপুর। ৮৮. মুফতি আব্দুল জব্বার কাসেমী। ৮৯. মুফতি শফি কাসেমী, বগুড়া। ৯০. মাওলানা মতিউর রহমান, গাজীপুর।
৯১. মাওলানা শরীফ, টাঙ্গাইল। ৯২. মাওলানা মাহফুজুর রহমান, ধামরাই। ৯৩. মাওলানা হোসাইন আহমাদ ইসহাকী, মুন্সিগঞ্জ। ৯৪. মাওলানা শরিফুল ইসলাম কাসেমী, টাঙ্গাইল। ৯৫. মাওলানা মাসরুর আহমাদ, শাইখে বাঘা, সিলেট। ৯৬. মাওলানা জিয়াউল হক কাসেমী, শরিয়তপুর। ৯৭. মাওলানা হারুন, মহাপরিচালক, ইক্বরা বোর্ড। ৯৮. মাওলানা শামসুল ইসলাম আরেফিন খান সাদী, মানিকগঞ্জ। ৯৯. মাওলানা আব্দুর রহিম কাসেমী, নরসিংদী। ১০০. মাওলানা শেখ মুজিবুর রহমান, পিরোজপুর। ১০১. মাওলানা হাকিম নুরুজ্জামান, মনতলা, হবিগঞ্জ ও মাওলানা ইউসুফ খাদিমানী, সিলেট।