১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বাংলার কথার আজ যুগপূর্তি

“দেশমাতৃকার জন্যে, মাটি ও মানুষের টানে”—এই শ্লোগানকে হৃদয়ে ধারণ করে আজ থেকে ঠিক এক যুগ আগে, ১৬ ডিসেম্বর, যাত্রা শুরু করেছিলো অনলাইন নিউজ মিডিয়া বাংলার কথা টোয়েন্টিফোর ডটকম। বাংলার কথার জন্মদিন আজ। প্রকাশের এক যুগ অর্থাৎ ১২ বছর পূর্ণ করে ১৩ বছরে পা রাখছে বাংলার কথা টোয়েন্টিফোর ডটকম। উদ্দেশ্য ছিলো স্পষ্ট—বাংলার চাপা কান্না, উপেক্ষিত ব্যথা আর অবহেলিত মানুষের কথা জানা ও জানানো। সময়ের প্রয়োজনে বাংলার কথা বলাই ছিলো আমাদের অঙ্গীকার।

যাত্রাকালের প্রেক্ষাপট আজও মনে পড়ে। আল মুনাদীর নামে এক কবির কথা স্মরণ করছি। সে কোথায় আছে যদিও জানি না। তাঁকে নিয়ে আমার স্বপ্নের কথা আলাপ করতাম। তখন অনলাইন নিউজ পোর্টালের চাহিদা ছিলো ব্যাপক, কিন্তু মানসম্মত ও নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম ছিল তুলনামূলকভাবে কম। বিডিনিউজ, বাংলানিউজ, পরিবর্তন, বাংলা ট্রিবিউনের মতো কয়েকটি ব্যতিক্রম থাকলেও নতুন কিছু করার জায়গা তখনো খোলা ছিলো। সেই ভাবনা থেকেই নিজস্ব ভিশন ও দায়বদ্ধতা নিয়ে বাংলার কথা’র সূচনা।

পথচলা সবসময় মসৃণ ছিলো না। শুরুর কয়েক বছর নিয়মিত চললেও নানা সীমাবদ্ধতায় মাঝেমধ্যে থেমে যেতে হয়েছে। ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সবসময় সম্ভব হয়নি। আমাদের কোনো ইনভেস্টর ছিলো না। শুরুতে ডোমেইন-হোস্টিং কেনাটাও ছিলো বড় চ্যালেঞ্জ। সৌভাগ্যক্রমে ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজ জানা থাকায় অতিরিক্ত ব্যয় এড়ানো গেছে। যদিও নতুন শেখা কাজ দিয়ে সাইট দাঁড় করানো ছিলো বেশ কষ্টসাধ্য, তবুও তখনকার জন্য সেটাই ছিলো এগিয়ে চলার সম্বল।

এই পথচলায় বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ আমার আইটি লাইফের প্রথম শিক্ষক মনসুর আহমদ ভাইয়ের প্রতি (বাংলার কথা করার সময় তিনি যুক্তরাজ্যে ছিলেন)। তাঁর সহযোগিতাতেই প্রথম ডোমেইন-হোস্টিং কেনা এবং প্রয়োজনের সময় ওয়েবসাইট সংক্রান্ত সহায়তা পাওয়া সম্ভব হয়েছিলো। এবং প্রথম দিকে বাংলা লোগো করেছিলেন কাতিব মিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা, ডিজাইনার ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ইনাম বিন সিদ্দিক। তাঁদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

আমরা শুরু থেকেই সাহিত্য বিভাগকে গুরুত্ব দিয়েছি। লেখকদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছি, নিয়মিত লেখা এসেছে অনেকের কাছ থেকে। সংবাদের ক্ষেত্রেও নিজস্ব ইমেইলে পর্যাপ্ত মেইল পেতাম। অ্যালেক্সা র‌্যাংকিং দ্রুত বাড়ছিলো। নিজেদের কাজ জানার সুবাদে এসইও-তেও মনোযোগ ছিলো। পরিচিত মহলে প্রচার না করে কাজের মধ্যেই ডুবে থাকতে চেয়েছি—কারণ আমাদের কাছে কাজটাই ছিল মুখ্য।

২০১৪–১৫ সালের দিকে লেখক ও প্রচ্ছদশিল্পী নাওয়াজ মারজান বিশেষভাবে সহযোগিতা করেন। ইংরেজি লোগো তাঁরই করা। সংবাদ ও ডিজাইনের বিভিন্ন কাজে তাঁর অবদান বাংলার কথা’কে টিকিয়ে রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছে। একই ফ্লোরে কাজ করার সুবাদে আমাদের কোলাবরেশন সহজ ছিলো। যদিও সময়ের ব্যস্ততা, কর্মস্থান ও পেশাগত বাস্তবতা আমাদের দীর্ঘদিন একসাথে থাকতে দেয়নি—তবুও তাঁর প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা অটুট।

এরপর জীবন ও সময়ের নানা বাস্তবতায় পথচলা থেমে থেমে এগিয়েছে। এখনো আমরা মূলত লেগে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কয়েকজন নিবেদিত মানুষ নিরবে কাজ করছেন। বিশেষ করে সাংবাদিক জামিল আহমদ আমাকে প্রতিনিয়ত পুশ করেন। আসলে বড় পরিসরে টিমওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারলে হয়তো আরও ভালো কিছু করা যেত। কিন্তু বিনিয়োগের অভাব ও মাল্টিটাস্কের চাপে কাঙ্ক্ষিত ফোকাস ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই কেটে গেছে একটি যুগ।

এই এক যুগপূর্তিতে নতুন করে নিয়ত করছি—বাংলার কথা’কে আবারও শক্তভাবে, দায়িত্বশীলভাবে ও নিয়মিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার। প্রয়োজন শুভাকাঙ্ক্ষীদের সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা।

বিজয় দিবস ও এক যুগপূর্তির এই মাহেন্দ্রক্ষণে বাংলার কথা টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা ও সকল শুভানুধ্যায়ীর প্রতি জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

ইবাদ বিন সিদ্দিক
সম্পাদক ও প্রকাশক
বাংলার কথা টোয়েন্টিফোর ডটকম

Home R3