১০ এপ্রিল, ২০২৬

জমিয়ত সভাপতির হ্যাটট্রিক হার

সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনে কেন্দ্রভিত্তিক প্রাপ্ত ফলাফলে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক।

তিনি বিএনপি-জমিয়ত জোটের প্রার্থী হিসেবে খেজুরগাছ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

মোট ১৫৮টি ভোটকেন্দ্রের প্রাপ্ত সেন্টারভিত্তিক ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিস নেতা মুফতি আবুল হাসান (দেওয়াল ঘড়ি)। যদিও পোস্টাল ব্যালেটের ভোটের হিসাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বাকি রয়েছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, জকিগঞ্জ উপজেলার সবকটি কেন্দ্রের ফলাফলে দেওয়াল ঘড়ি প্রতীক পেয়েছে ৪৪ হাজার ১৮১ ভোট। একই উপজেলায় খেজুরগাছ প্রতীক পেয়েছে ২০ হাজার ৬৬০ ভোট।

অন্যদিকে নিজ উপজেলা কানাইঘাটে খেজুরগাছ প্রতীক এগিয়ে থাকলেও সামগ্রিক ফলে পিছিয়ে পড়েন উবায়দুল্লাহ ফারুক। কানাইঘাটে তিনি পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৯২৪ ভোট। সেখানে দেওয়াল ঘড়ি প্রতীক পেয়েছে ৩১ হাজার ৬৩৩ ভোট।

দুই উপজেলার মোট ফলে ১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিস প্রার্থী মুফতি আবুল হাসান দেওয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৮১৪ ভোট। খেজুরগাছ প্রতীক নিয়ে জমিয়ত সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৫৮৪ ভোট। এতে ৬ হাজার ২৩০ ভোটের ব্যবধানে পরাজয় বরণ করেন জমিয়ত সভাপতি।

উল্লেখ্য, মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসন থেকে প্রথমবারের মতো খেজুর গাছ প্রতীকে নির্বাচন করে পরাজিত হন। সেবার তিনি ভোট পেয়েছিলেন ৮,৯৪৬টি। আওয়ামী লীগের হাফিজ আহমদ মজুমদার বিজয়ী হন, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রার্থী মাওলানা ফরীদ উদ্দিন চৌধুরী।

এরপর ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে ৮৬,১৫১ ভোট পান। তবে  বিতর্কিত সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হাফিজ আহমেদ মজুমদার ১,৩৯,৭৩৫ ভোট পান।

সর্বশেষ ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জমিয়ত জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে ১১ দলীয় জামায়াত জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মুফতি আবুল হাসানের কাছে পরাজিত হয়ে হারের হ্যাটট্রিক করেন।

এদিকে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল প্রকাশের পর ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। বিভিন্ন এলাকায় মিছিল ও উদ্‌যাপন করতে দেখা গেছে তাদের। তবে আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার দিকে এখন সবার দৃষ্টি।