১৯ মার্চ, ২০২৬

সিলেটে যে দুই আলেমকে হারাতে এককাট্টা জমিয়ত

সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ) ও সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ এখন চরমে। উভয় আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের দুজন হেভিওয়েট আলেম প্রার্থী রয়েছেন। সিলেট-৩ আসনে বাংলাদেশ কেলাফত মজলিসের মাওলানা হাফেজ মুসলেহ উদ্দীন রাজু এবং সিলেট-৫ আসনে খেলাফত মজলিসের মুফতি আবুল হাসান। তাঁদের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা রুখতে এবার সরাসরি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। বিশেষ করে এই দুই আসনে আলেম প্রার্থীর গণজোয়ার ঠেকাতে জমিয়ত ও বিএনপি জোটবদ্ধভাবে মাঠে নেমেছে।

এই দুই আসনের মধ্যে সিলেট-৩ আসনে আলেম প্রার্থী রয়েছেন দুজন। ১১ দলীয় জোট মনোনীত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু ছাড়াও ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখার প্রার্থী মাওলানা রেদওয়ানুল হক চৌধুরী রাজু। তবে এখানে মূল লড়াইটা হবে বিএনপি-জমিয়ত মনোনীত ধানের মীষের এম এ মালেক ও ১১ দলীয় জোট মনোনীত রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা রাজুর মধ্যে।

অপরদিকে সিলেট-৫ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা দুজনই আলেম। একজন বিএনপি-জমিয়ত জোট মনোনীত জমিয়তের কেন্দ্রীয় সভাপতি খেজুর গাছ প্রতীকের মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, অপরজন ১১ দলীয় জোট মনোনীত দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকের মুফতি আবুল হাসান।

এ ছাড়া নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ফুটবল প্রতীকে মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন)। ফলে এই আসনের ইসলামপন্থি ভোটাররা একন দ্বিধাবিভক্ত।

সম্প্রতি সিলেট-৩ আসনে বিএনপি-জমিয়থ জোট মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির এম এ মালেকের এক নির্বাচনী সভায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী বলেছেন, সিলেট-৩ ও সিলেট-৫ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে জমিয়ত পূর্ণ শক্তি নিয়ে লড়বে।

তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন , জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বিএনপির সাথে জোটবদ্ধ হয়ে মাঠের লড়াইয়ে আছে এবং তাদের লক্ষ্য হলো এই আসনগুলোতে জোটের প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করা।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

তিনি আরও বলেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম যেদিন বিএনপির সাথে জোটের ঘোষণা দিয়েছে, সেদিন থেকেই আমরা মাঠের লড়াইয়ে আছি। সিলেট-৩ ও ৫ আসনে আমাদের ওপর যে চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়েছে, জমিয়ত তা সানন্দে গ্রহণ করেছে।

এছাড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, জমিয়ত নেতাকর্মীদের পাশে বসে বিএনপি প্রার্থী বলছেন, তার বাবা আল্লামা গহরপুরীকে আমরা সম্মান করি। তিনি জমিয়ত করতেন। আর তাঁর ছেলে (মাওলানা রাজু) এখন পথভ্রষ্ট হয়েছে, মূলধারার আলেমদের ছেড়ে জামায়াতের সাথে হাত মিলিয়েছে।

অন্যদিকে, ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীরা তাঁদের নিজস্ব শক্তিতে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। সিলেট-৩ আসনে মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু রিকশা প্রতীক নিয়ে প্রতিদিন পথে-প্রান্তরে সাধারণ মানুষের সাড়া পাচ্ছেন। গত শুক্রবার লাউয়াই এলাকায় গণসংযোগ শেষে এক পথসভায় তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রার্থীর মিথ্যাচারের জবাব দিয়ে বলেন যে, বয়সের কারণে তিনি এম এ মালেককে সম্মান করেন, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে মিথ্যা বলা পরিহার করা উচিত।

একইভাবে সিলেট-৫ আসনে মুফতি আবুল হাসানের ব্যাপারেও জমিয়তের নেতাকর্মীরা নানা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। এক ভিডিওতে জমিয়ত নেতা মাওলানা বিলাল আহমদ ইমরানকে বলতে দেখা গেছে, মাওলানা আবুল হাসান একজন সম্মানী মানুষ। রাজনীতিতে তার সম্পৃক্ততা আমরা জানতাম না। এখন তিনি ‘প্ররোচনায়’ পড়ে ভ্রান্ত মওদুদিপন্থিদের সাথে নিয়ে চলছেন। তাঁর (মুফতি আবুল হাসান) পকেটে এখন সাপ ঢুকে গেছে।

এদিকে গতকাল রবিবার গাছবাড়ি বাজারে এক বিশাল পথসভায় দেওয়াল ঘড়ির প্রার্থী মুফতি আবুল হাসান বলেন, আমি নির্বাচিত হলে কোনো নির্দিষ্ট দলের এমপি হবেন না, বরং দল-মতনির্বিশেষে সবার প্রতিনিধি হিসেবে জকিগঞ্জ-কানাইগঞ্জকে একটি শান্তির জনপদ হিসেবে গড়ে তুলব।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিলেট-৩ আসনে রিকশা প্রতীকের রাজু এবং সিলেট-৫ আসনে দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকের মুফতি আবুল হাসান নির্বাচনী লড়াইয়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। এই দুই আলেম প্রার্থীর বিজয় রুখতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের এই প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ সিলেট বিভাগের নির্বাচনী রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনেই নির্ধারিত হবে—জমিয়তের এই চ্যালেঞ্জ সফল হয়, নাকি ১১-দলীয় জোটের আলেমদের এই জয়যাত্রা অব্যাহত থাকে।