সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেশের আলোচিত দুই তরুণ বক্তা, সদ্য জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানকারী মাওলানা আলী হাসান ওসামা এবং জাতীয় উলামা-মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি ও চরেোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সমর্থক মাওলানা রেজাউল করীম আবরারের কঠোর সমালোচনা করেছেন সুনাগঞ্জের প্রবীণ আলেম মাওলানা নুরুল ইসলাম খান।
ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, মাওলানা নুরুল ইসলাম সিলেটী আঞ্চলিক ভাষায় দেওয়া সেই বক্তব্যে মাওলানা আলী হাসান ওসামাকে তিনি তাদের ‘গোমরাহ’ (পথভ্রষ্ট) এবং ‘মওদুদী’ (জামায়াতপন্থী) আদর্শের অনুসারী হিসেবে দাবি করেন। আর মাওলানা আবরারকে ‘আধা মওদুদী’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মসজিদে মুসল্লিদের সামনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি মাওলানা উসামাকে সরাসরি সম্বোধন করে বলেন, ‘এই ওসামা! এই ওসামা! তুই জমাতি অইছস কিতা? গোমরাহ! কও গোমরাহ (উপস্থিত জনতা: গোমরাহ)। আগেও আছিল গোমরাহ, আমি আগেই মোল্লা হকলরে সতর্ক করছি, এরারে লইয়া নাছো কেনে? আবরাররে লইয়া নাছো কেনে? হিটা আধা মউদুদি, এইটা পুরা মউদুদি। আবরার আধা মউদুদি।’
একপর্যায়ে তিনি রাগতস্বরে উপস্থিত জনতাকে সম্বোধন করে বলেন, ‘এই মাতো না বে? আবরার আধা মউদুদি। আমি অইখানেই কইছি, পরিচয় পাইবার আগেই কইছি তার এলাকায় গিয়া… কিতার লাগি এরারে লইয়া নাছো মোল্লা হকল? আমরার মোল্লা হকলর কোনো চিন্তা নাই, যারে একনা চমকিলা পায়, এরারে লইয়া নাচে। পাগলের লাখান নাচে। এতার মাঝে আগে আছিল মউদুদিয়ত, অহন ইটা পরিষ্কার অই গেছেগি।’
মাওলানা নুরুল ইসলাম খানের এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে তাঁর অনুসারী ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতাকর্মীরা তাঁর এই বক্তব্যের পক্ষে জোরালো সমর্থন জানান।
ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ধর্মীয় মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মাওলানা নুরুল ইসলাম খান কওমি আলেমদের মধ্যে অত্যন্ত পরিচিত মুখ। অন্যদিকে, মাওলানা ওসামা ও রেজাউল করীম আবরার তরুণ প্রজন্মের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় বক্তা। তাদের আদর্শিক অবস্থান নিয়ে নুরুল ইসলাম খানের এই আক্রমণাত্মক বক্তব্য নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
ছাত্র জমিয়তের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এখলাসুর রহমান রিয়াদ তাঁর ফেসবুক ওয়ালে মাওলানা নুরুল ইসলাম খানের বক্তব্যের সমর্থন জানিয়ে লিখেছেন, ‘১৪০০ বছরের আমানত সংরক্ষণে আমাদের আকাবির কখনোই গোঁজামিলের আশ্রয় নেননি। বরাবরের মতই দুধ কা দুধ আওর পানি কা পানি দ্বিধাহীন চিত্তে ও দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে প্রকাশ করেছেন।
দেশব্যাপী মাজালিসে ফিকরে দারুল উলুম দেওবন্দ এবং মাজালিসে আকাবির অনুষ্ঠিত হওয়া জরুরি।
আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী রহ. আমাকে ফিকরে দারুল উলুম দেওবন্দ এর উপর ছাত্র জমিয়তের উদ্যোগে একটি প্রোগ্রাম আয়োজন করতে বলেছিলেন। আমরাও প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলাম। কিন্তু এর মধ্যেই হযরত হসপিটালাইজড হয়ে যান। এবং কিছুদিন পর দুনিয়ার সফর সমাপ্ত করেন। আমরা সংগঠনের অন্যান্য নিয়মতান্ত্রিক কাজে মনোযোগী হয়ে যাই।
আল্লাহ তায়ালা আকাবিরের খুলুসিয়্যাত, হিম্মত, স্পষ্টবাদিতা ও দূরদর্শিতা আমাদের দান করুন।’
‘ওয়ার্ল্ড জমিয়ত’ নামে জমিয়ত পরিচালিত একটি পেইজে লেখা হয়েছে, ‘আলী হাসান জামাতী ও জামায়াতের গুপ্ত ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর আধা জামাতি আবরারকে নিয়ে যে সতর্কবার্তা দিলেন, সিলেটের শীর্ষ বুজুর্গ আলেম, শায়খুল হাদীস আল্লামা নুরুল ইসলাম খান হাফিজাহুল্লাহ। বুজুর্গদের মুখের বুলি বিফলে যায় না। অতএব আবরারকে নিয়ে সতর্ক হোন।’
মূলত জমিয়ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁর এই বক্তব্যের পক্ষ নিলেও অধিকাংশ নেটিজেনই বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। মাওলানা নুরুল ইসলাম খানের মতো প্রবীন ও সম্মানিত একজন ব্যক্তির পক্ষে এমন অশোভন মন্তব্য উচিত হয়নি বলে তারা মনে করেন।