১০ জানুয়ারি, ২০২৬

পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন ‘আপাতত’ স্থগিত

জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বারবার সিদ্ধান্ত বদল করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংসদীয় আসনের সীমানা নিয়ে আইনি লড়াই ও প্রার্থীর যোগ্যতা-অযোগ্যতা নির্ধারণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়েও একেক সময়ে একেক সিদ্ধান্ত দিয়েছে সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানটি। এমনকি রিটার্নিং কর্মকর্তাদের আনঅফিশিয়াল সিদ্ধান্ত দিয়ে সেটি আবার পরিবর্তন করার মতো ঘটনাও ঘটিয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনে।

 

সীমানা নিয়ে সিদ্ধান্ত বদলের কারণে আইনি জটিলতায় পড়ে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচন ‘আপাতত’ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। এ দুটি আসনের সীমানা নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করেও তা প্রত্যাহার করে নেয় কমিশন।

 

গত ৫ জানুয়ারি আপিল বিভাগের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। ওই দুটি আসনে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন আপিল আবেদন করলেও হঠাৎ তা প্রত্যাহার করে নেয়। এবং হাইকোর্টের রায়ের আলোকে ২৪ ডিসেম্বর পাবনা-১ ও ২ এবং ফরিদপুর-২ আসনের সীমানায় পরিবর্তন এনে গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে সাথিয়া উপজেলার পাশাপাশি বেড়া উপজেলার একটি পৌরসভা ও চারটি ইউনিয়ন নিয়ে পাবনা-১ আসন গঠন করা হয়। একইভাবে পাবনা-২ আসনে সুজানগর উপজেলা ও বেড়া উপজেলার ওই পৌরসভা ও চারটি ইউনিয়ন বাদ দেওয়া হয়।

 

ইসির ২৪ ডিসেম্বরের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির অংশটুকু স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। এই স্থগিতাদেশ থাকবে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) দায়ের করা পর্যন্ত বলে রায় দেন। এর ফলে নির্বাচন কমিশন ওই দুটি আসনের সীমানায় যে পরিবর্তন এনেছিল, তা বহাল হয়। ওই রায়ের অনুলিপি নির্বাচন কমিশনে পৌঁছানোর পরিপ্রেক্ষিতে এ দুটি আসনের নির্বাচন আপাতত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, বাগেরহাট ও গাজীপুরের সীমানা নিয়ে মামলায় ইসি আপিল নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় শেষ হওয়ার আগে হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী পাবনা-১ ও ২ আসনের সীমানায় ফের পরিবর্তন আনে। এক্ষেত্রে আপিল নিষ্পত্তি পর্যন্ত কমিশন অপেক্ষা করেনি।

 

পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বৃহস্পতিবার রাতে যুগান্তরকে বলেন, ওই দুই আসনের নির্বাচন পুরোপুরি স্থগিত করা হয়েছে, তা বলা যাবে না। আমরা আপাতত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সুপ্রিমকোর্টের পরবর্তী আদেশ না আসা পর্যন্ত এ দুটি আসনের নির্বাচন স্থগিত থাকবে।

Home R3