৮ জানুয়ারি, ২০২৬

শরিকদের জন্য ১১২ আসন দিতে চায় জামায়াত

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১২ দলীয় জোটের আসন বণ্টন অনেকটাই শেষের দিকে। এর মধ্য দিয়ে চলমান গুঞ্জন আর টানাপোড়েন শেষ হতে চলেছে। তবে কিছু আসন উন্মুক্ত থাকবে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

 

আসন সমঝোতা নিয়ে দলুগলোর মাঝে চাপা ক্ষোভ থাকলেও বৃহত্তর স্বার্থে দ্রুত নির্বাচনী মাঠে ঐক্যবদ্ধভাবে নামতে চলেছেন।

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে জোট করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ১২টি রাজনৈতিক দল।

 

শুরুতে সমমনা আটটি ইসলামি দল দিয়ে এ জোট শুরু হলেও জোটের শেষে জোটের অর্ন্তভুক্ত হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এলডিপি ও এবি পার্টিসহ আরও ৪টি দল। তবে নির্বাচনের আগে দলগুলোর মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনের আগ পর্যন্ত টিকবে কী না, তা নিয়েও সংশয় দেখা দেয়।

 

আসন সমঝোতা নিয়ে টানাপোড়েন সত্বেও জোট ছাড়তে নারাজ দলগুলো। এক্ষেত্রে জোটের বড় দল হিসেবে আসন ছাড় দেওয়ার জন্য জামায়াতকে চাপ দিচ্ছে অন্য দলগুলো। আসন ছাড়ের ক্ষেত্রে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে জামায়াতের দ্বন্দ্ব ইতিমধ্যেই আলোচনায় এসেছে।

 

জোটের নেতা–কর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াত নিজের জন্য ১৮০ থেকে ১৮৫টি আসন রাখতে চায়। বাকি আসনগুলো জোটের শরিকদের মধ্যে বণ্টনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই হিসাবে জামায়াতের পর সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ার কথা ইসলামী আন্দোলনের, এরপর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)।

 

তবে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন এই প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নয়। দলটির দাবি, তাদের আরও বেশি আসন পাওয়া উচিত।

 

মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসেও জামায়াতের সঙ্গে আসন ভাগাভাগিতে তাদের কাঙ্খিত সমঝোতায় আসতে পারেনি।

 

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩০০ আসনের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী নিজেদের জন্য ১৮৮ আসন রাখতে চাইছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ৪৪টি আসনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আর এনসিপি ২৯, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১৩, খেলাফত মজলিস ৭, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ৫, এলডিপি ৫, এবি পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ও লেবার পার্টিকে ২ আসন এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে ১টি আসন দেওয়ার কথা বলছে জামায়াতে ইসলামী। দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

 

এ আসন সমঝোতাই চূড়ান্ত নয়। সর্বশেষ ১০-১৫ টি আসন উন্মুক্ত থাকতে পারে। এসব আসনে জামায়াতের প্রার্থীর সঙ্গে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থী থাকবে।

 

এ বিষয়ে জামায়াতের এক নেতা বলেন, আমরা উদার মন নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছি। আশা করি, দু-এক দিনের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে। তিনি বলেন, সংখ্যা বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়; যাকে যেখানে দিলে ভালো করবে, আমরা সেখানে মনোনয়ন দেব।

 

এদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিসের একাধিক নেতা বলেছেন, দলগুলোর মাঝে সমঝোতা হবে, এটা অনেকটা নিশ্চিত।

 

এদিকে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় দলটির আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ‘বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা ৮টি ইসলামী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।’

 

তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যের কথা বিবেচনায় রেখে এ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে একই সঙ্গে সংগঠনের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান ও সাংগঠনিক শক্তির ভিত্তিতে একটি ন্যূনতম যৌক্তিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সমঝোতার ধরন যাই হোক না কেন, নির্ধারিত কিছু আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস অবশ্যই রিকশা প্রতীক নিয়ে নিজস্ব প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশগ্রহণ করবে।