৩১ জানুয়ারি, ২০২৬

বিএনপি মালেকের মোকাবেলায় এগিয়ে মুসলেহ উদ্দীন রাজু

দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে থাকা তারেক রহমানের শ্বশুর বাড়ির আসন হিসেবে পরিচিত সিলেট-৩। দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ নিয়ে গঠিত এই আসনে এবার ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির যুক্তরাজ্য শাখার সাবেক সভাপতি এম এ মালেক। তবে জনপ্রিয় প্রতীক ধানের শীষ পাওয়ার পরও স্বস্তিতে নেই বিএনপির এই আলোচিত নেতা। তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে সামনে এসেছেন তরুণ আলেম হাফেজ মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীক নিয়ে লড়াই করছেন। জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের সমর্থন পেয়েছেন। ফলে এই আসনে মালেক বনাম রাজুর লড়াই জমে উঠেছে।

মাওলানা রাজুকে শেষ মুহূর্তে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেয় ১১ দলীয় জোট। শুরুতে কিছুটা অসন্তোষ থাকলেও কয়েক দিনের মধ্যেই জামায়াতে ইসলামীসহ জোটের প্রায় সব দল একযোগে তাকে জেতাতে মাঠে নামে। ফলে দিন যত গড়াচ্ছে ভোটের মাঠে মাওলানা রাজুর দাপট তত বাড়ছে। প্রতিদিন তিনি নতুন নতুন এলাকায় গণসংযোগে যাচ্ছেন এবং ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। এলাকাবাসীর স্বতস্ফূর্ত সাড়া দেখে তিনি আশা করছেন, ভোটের মাঠে এর প্রতিফলন ঘটবে এবং রিকশা প্রতীক বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে।

Raju2

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় বিএনপিতে বিরোধ রয়েছে। তাছাড়া এম এ মালেক যুক্তরাজ্য প্রবাসী, তাকে সংসদ সদস্য করলে এলাকাবাসী পাশে পাবে না বলেই আশঙ্কা করছে। অন্যদিকে মাওলানা রাজুর জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং কর্মক্ষেত্র সবই সিলেট-৩ এলাকায়। এ হিসেবে এলাকাবাসীর পছন্দের তালিকায়ও তিনি শীর্ষে রয়েছেন।

মাওলানা রাজু যে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছেন সেটা টের পাচ্ছেন ধানের শীষের প্রার্থী এম এ মালেকও। এজন্য তিনি ইতোমধ্যে ভোটের প্রচারে নেমে মাওলানা রাজুকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন। তবে মাওলানা রাজু তার কথার জবাব না দিয়ে বলেছেন, ধানের শীষের প্রার্থী এম এ মালেক বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ। তিনি আমাদের শ্রদ্ধার পাত্র। এটিই আমাদের পারিবারিক শিক্ষা। কিন্তু তার পক্ষ থেকে রাজনৈতিকভাবে যে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা দুঃখজনক। আমি তাকে এসব মিথ্যাচার বন্ধ করতে অনুরোধ জানাচ্ছি।

Raju3

এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ছিলেন দক্ষিণ সুরমার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমদ। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা দেলওয়ার হোসাইনেরও শক্ত অবস্থান ছিল। তবে জোট থেকে মাওলানা রাজু মনোনয়ন পাওয়ার পর সবাই একযোগে তাকে বিজয়ী করতে নেমেছেন। এতে ভোটের মাঠের চিত্র দিন দিন পাল্টাচ্ছে।

মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু সক্রিয় রাজনীতিতে না থাকলেও ছাত্রজীবনে ছাত্র মজলিসের তুখোড় নেতা ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি শিক্ষা ও সেবামূলক নানা কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। তিনি সিলেটের ঐতিহ্যবাহী দীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া ইসলামিয়া হোসাইনিয়া গহরপুরের প্রিন্সিপাল। কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের সহসভাপতি ও অন্যতম নীতিনির্ধারক। কওমি বোর্ডগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা আল-হাইয়্যাতুল উলয়ারও তিনি সদস্য। প্রভাবশালী তরুণ আলেম হিসেবে সারাদেশে তার পরিচিতি রয়েছে।

Raju4

মুসলেহ উদ্দীন রাজুর বাবা ছিলেন প্রখ্যাত আলেম শাইখুল হাদিস আল্লামা নূরউদ্দীন আহমদ গহরপুরী, যিনি কওমি শিক্ষাবোর্ডের প্রায় নয় বছরের সভাপতি ছিলেন। বাবার পরিচিতি এবং নিজের বহুমুখী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মাওলানা রাজু এলাকাবাসীর কাছে আগে থেকেই জনপ্রিয়।

ইআম/বা-ক