শীত মৌসুম এলেই সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা, নাক বন্ধ ও হালকা জ্বরের মতো সমস্যা বেড়ে যায়। তাপমাত্রা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাসজনিত সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে। এ সময় প্রাকৃতিক ভেষজ হিসেবে তুলসী পাতা হতে পারে সহজ ও কার্যকর সমাধান বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আয়ুর্বেদ ও প্রাচীন ভেষজ চিকিৎসায় তুলসী পাতার ব্যবহার বহু পুরোনো। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিভাইরাল উপাদান শীতকালীন নানা অসুস্থতা প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক : বিশেষজ্ঞদের মতে, তুলসী পাতায় থাকা ইউজেনল, ফ্ল্যাভোনয়েড ও ভিটামিন-সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। শীতে ভাইরাসজনিত সর্দি-কাশি ও সংক্রমণ প্রতিরোধে নিয়মিত তুলসী পাতা গ্রহণ উপকারী।
কাশি ও গলা ব্যথা উপশমে কার্যকর : তুলসী পাতার রস বা তুলসী চা কাশি কমাতে এবং গলার জ্বালা ও খুসখুসে ভাব প্রশমনে সহায়তা করে। এতে থাকা প্রাকৃতিক প্রদাহনাশক উপাদান শ্বাসনালীর প্রদাহ কমিয়ে আরাম দেয়।
নাক বন্ধ ও শ্বাসকষ্টে আরাম দেয় : শীতকালে সর্দির কারণে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া বা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া সাধারণ সমস্যা। তুলসী পাতার উষ্ণ চা নাকের ভেতরের জমে থাকা শ্লেষ্মা কমাতে সাহায্য করে, ফলে শ্বাস নেওয়া সহজ হয়।
জ্বর ও শরীর ব্যথা কমাতে ভূমিকা রাখে : হালকা জ্বর, শরীর ব্যথা ও ক্লান্তি দূর করতে তুলসী পাতার ক্বাথ উপকারী বলে জানান ভেষজ চিকিৎসকরা। এটি শরীরকে উষ্ণ রাখে এবং ঘাম বের করে টক্সিন দূর করতে সহায়তা করে।
ব্যবহারের উপায়
তুলসী চা: কয়েকটি তাজা তুলসী পাতা গরম পানিতে ফুটিয়ে মধু বা লেবু মিশিয়ে পান করা যেতে পারে।
তুলসী পাতার রস: সকালে খালি পেটে ১–২ চা চামচ তুলসী পাতার রস গ্রহণ করা উপকারী।
তুলসী ও আদা: তুলসী পাতার সঙ্গে আদা ফুটিয়ে পান করলে সর্দি-কাশিতে দ্রুত আরাম মেলে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে সর্দি-কাশি, জ্বর বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকলে শুধুমাত্র ঘরোয়া চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।