৩০ জানুয়ারি, ২০২৬

শেরপুরে নিহত জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের দাফন সম্পন্ন

শেরপুরের শ্রীবরদীতে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের চাউলিয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে বিকেলে শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। পরে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

দাফন ও জানাজা উপলক্ষে শ্রীবরদীতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় প্রশাসন। এলাকায় চার প্লাটুন বিজিবি ও সেনাসদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে।

নিহত রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলার ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। পাশাপাশি স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক কন্যা রেখে গেছেন। এ ঘটনার পর তার পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

জানাজার নামাজে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সেক্রেটারি ড. মো. ছামিউল হক ফারুকী বলেন, সরকারিভাবে আয়োজিত নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা প্রশাসনের ব্যর্থতা। হামলাকারীদের এখনো গ্রেফতার না করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

 

ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি হাফেজ রাশেদুল ইসলাম এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) জেলা আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার লিখন মিয়াও হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানান।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঝিনাইগাতী উপজেলার স্টেডিয়া এলাকায় উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত নির্বাচনি ইশতেহার অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান মাওলানা রেজাউল করিম।

ঘটনার পর দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম এবং ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-কে প্রত্যাহার করেছে নির্বাচন কমিশন।

জেলা পুলিশ সুপার কামরুল ইসলাম বলেন, ‘মাওলানা রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় পুলিশের একটি বিশেষ টিম কাজ করছে।’

Home R3