১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মার্কিন হামলা হলে ইরানকে সহযোগিতা করবে তালেবান

ইরানে হামলা চালানোর জন্য মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল নৌবহর মোতায়েন করেছে ‍যুক্তরাষ্ট্র। আরো একটি নৌবহর পারস্য উপসাগরের কাছাকাছি পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই মধ্যে ইরানকে সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছে আফগানিস্তান।

এর আগে মার্কিন হামলার হুমকির মুখে ইরানের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে রেখেছে ইরাকের শিয়া মিলিশিয়ারা। তবে সুন্নি মুসলিম অধ্যুষিত ইরাকসহ অন্য কোনো দেশ সম্ভাব্য যুদ্ধে তেহরানের পক্ষাবলম্বনের বিষয়ে কিছুই জানায়নি। যদিও সবাই যুদ্ধের বিরোধীতা করে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর ওপর জোর দিয়েছে।

আফগানিস্তান সুন্নি মুসলিম অধ্যুষিত দেশ হলেও শিয়া মুসলিমদের শাসিত ইরানকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

তলেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ রোববার রেডিও ইরানের পশতু ভাষা বিভাগকে জানিয়েছেন, ইরানে মার্কিন হামলার ঘটনা ঘটলে তালেবান যোদ্ধারা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে সাহায্য ও সহযোগিতা করবে।

জাবিহুল্লাহ বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ইরান অনুরোধ করলে আফগানিস্তানের জনগণ সহানুভূতি দেখাবে এবং সম্ভাব্য সহযোগিতা করবে। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, এর অর্থ এই নয় যে সুন্নি এই গোষ্ঠীটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আমেরিকার বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশোধমূলক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে।

পাশাপাশি, তালেবানের পক্ষ থেকে এই বার্তাও দেওয়া হয়েছে যে, তারা আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে কোনো সংঘাত চায় না। তারা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান সমস্যার সমাধানে যুদ্ধের বদলে কূটনৈতিক পদক্ষেপ এবং নিরবচ্ছিন্ন আলোচনাকেই অগ্রাধিকার দেয়।

ইরানিদের যুদ্ধজয়ের কথা উল্লেখ করে জাবিহুল্লাহ বলেন, গত বছরের জুনে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে ইরান জয়ী হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় আক্রমণ করলে ইরানিরা আবারও জিতবে।

তিনি বলেন, ইরান আবারও জিততে সক্ষম হবে, কারণ দেশটির সেই সামর্থ্য আছে, তারা ন্যায়ের পথে আছে এবং নিজেদের রক্ষা করার অধিকার তাদের আছে।

গত জুনে ইসরাইল যখন ইরানে হামলা করেছিল তখন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র, সামরিক নেতৃত্ব ও অন্যান্য কৌশলগত অবস্থানে আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল তালেবান।

সূত্র: জেরুসালেম পোস্ট।