মিয়ানমার সীমান্তে গুলিবিদ্ধ টেকনাফের শিশু হুজাইফা আফনানকে মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতালে (নিনস) ভর্তি করা হয়েছে। শিশুটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হওয়ায় নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। উন্নত চিকিৎসায় ৯ সদস্য বিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা হলেন-জাতীয় নিউরো সায়েন্স হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী গিয়াস, যুগ্ম পরিচালক ডা. বদরুল আলম, অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, ডা. মনিরুল ইসলাম, ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু, ডা. সুদীপ্ত কুমার মুখার্জি, ডা. সিরাজুল ইসলাম ও ডা. ফরহাদ হোসেন চৌধুরী।
বোর্ডের সভা শেষে বুধবার জানানো হয়, গুলির আঘাতে হুজাইফার মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তার স্ট্রোক হয়েছে। মস্তিষ্কের ডান পাশে চাপ বেড়েছে।
মস্তিষ্কের চাপ কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিশুটিকে এখনো মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ কৃত্রিমভাবে তার শ্বাস-প্রশ্বাস চালু রয়েছে।
হুজাইফার গ্লাসগো কোমা স্কেল অনুযায়ী জ্ঞানের মাত্রা ১৫-এর মধ্যে ৭, যা তার অবস্থাকে গুরুতর হিসাবে নির্দেশ করে। এ পর্যায়ে তার শারীরিক অবস্থার প্রতিটি পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
নিউরো সায়েন্স ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু যুগান্তরকে জানিয়েছেন, আপাতত দেশেই হুজাইফার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার অবস্থা অনুযায়ী পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা ধাপে ধাপে নির্ধারণ করা হবে।
রোববার সকাল ৯টার দিকে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ছোড়া গুলিতে আহত হয় টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ সীমান্ত এলাকার শিশু হুজাইফা। সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার মস্তিষ্কে গুলি রয়ে গেছে। যার ফলে মস্তিষ্কের চাপ কমাতে খুলির একটি অংশ খুলে রাখা হয়েছে।