১ জানুয়ারি, ২০২৬

মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষার ২৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী নতুন বই পেল

ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে বই বিতরণ কার্যক্রম-২০২৬ এর উদ্বোধন করেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ ও মনির হায়দার এবং ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিন।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (৮ম পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পটি পাসের করার জন্য ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। বিভিন্ন আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এ প্রকল্পটিকে পাস করাতে হয়েছে। প্রকল্পটি রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

আলেমদের কল্যাণে গৃহীত নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আলেমদেরকে পিএইচডি স্কলারশিপ দেওয়া হবে। ইসলামি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি আছে এমন ইমাম ও আলেম-ওলামারা এ স্কলারশিপ পাবেন। বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইসলামি বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনে এ স্কলারশিপ প্রদান করা হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এছাড়া, সারাদেশে ইসলামের খেদমতে যারা বিশেষ অবদান রেখেছেন তাদেরকে চলতি মাসেই কেন্দ্রীয়ভাবে সম্মাননা প্রদান করা হবে বলে জানান উপদেষ্টা।

ড. খালিদ বলেন, কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস সনদকে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য ৪টি মন্ত্রণালয়ে আধা-সরকারি পত্র দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয় থেকে দাওরায়ে হাদিস সনদধারীদের নিকাহ রেজিস্ট্রারের লাইসেন্স প্রদানে বিধিমালা সংশোধন করা হয়েছে। এছাড়া, এ সনদধারীদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার খতিব, ইমাম ও ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে পদায়নের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার সাথেও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

জনবল নিয়োগে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, যতক্ষণ আমরা দায়িত্বে আছি ততক্ষণ দায়িত্বশীলতার সাথে এবং আল্লাহর ভয় অন্তরে রেখে কাজ করে যাব। অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে এবং বিধিবিধান অনুসারে নিয়োগ, পদোন্নতিসহ সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

উল্লেখ্য, এ প্রকল্পের চলতি মেয়াদে পর্যায়ক্রমে এক কোটি ৪৫ লাখ ৮১ হাজার ২০০ জনকে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতা বিকাশ এবং পবিত্র কুরআনসহ প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান করা হবে।

Home R3