৮ জানুয়ারি, ২০২৬

প্রায় অর্ধলক্ষ প্রবাসী সিলেটির নিবন্ধন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে ভোটাধিকার প্রয়োগে নতুন মাত্রা যোগ করছে পোস্টাল ভোট ব্যবস্থা। দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নিজ নির্বাচনী এলাকা ছাড়াও নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা ভোটারদের অংশগ্রহণে এই পদ্ধতির প্রতি আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে।

 

শেষ সময় পর্যন্ত সর্বমোট পোস্টাল ভোটে নিবন্ধন করেছেন ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২জন।

 

তার মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১২ লাখ ১৮ হাজার ৪৩৪ জন এবং মহিলা ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৫২ হাজার ২৪৬ জন। এই পোস্টাল ভোটে নিবন্ধন করে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন ৭ হাজার ১২ জন এবং অনুমোদিত হয়েছেন ১৫ লাখ ২৬ হাজার ৬৭০ জন।

 

গত ১৮ নভেম্বর শুরু হওয়া এই নিবন্ধনপ্রক্রিয়া সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত ১২টায় শেষ হয়। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

পোস্টাল ভোটে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন নিবন্ধনকারীদের মধ্যে ৪৫ হাজার ৮০৬ জন সিলেটি প্রবাসী রয়েছেন। তার মধ্যে ৩৮ হাজার ৪৭৭ পুরুষ ভোটার ও ৭ হাজার ৩২৯ জন মহিলা ভোটার রয়েছেন। এই পোস্টাল ভোটে এখন পর্যন্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন ২২৫ জন সিলেটি প্রবাসী এবং অনুমোদন পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৫৮১ প্রবাসী।

 

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ভোটের জন্য বাংলাদেশ থেকে মোট নিবন্ধন করেছেন ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪০ জন। তারমধ্যে পুরুষ হচ্ছেন ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৩০৪ জন এবং মহিলা ২ লাখ ৪ হাজার ৮৩৬ জন।

 

এখন পর্যন্ত পোস্টাল ভোটে নিবন্ধন করে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন ১ হাজার ৫৬৮ জন এবং অনুমোদিত হয়েছেন ৭ লাখ ৫৯ হাজার ৫৭২ জন। প্রবাসী বাংলাদেশির পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নিজ নির্বাচনী এলাকা ছাড়াও অবস্থানরত নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিরা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।

 

দেশের ভেতরে ‘ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোট’ ক্যাটাগরিতে নিবন্ধন করেছেন, তাদের মধ্যে ৫ লাখ ৭৫ হাজার ২০০ জন সরকারি চাকরিজীবী, ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৪২ জন নির্বাচনি দায়িত্বপ্রাপ্ত, ১০ হাজার ১০ জন আনসার-ভিডিপি। আর কারাগার থেকে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন ৬ হাজার ২৮৩ জন।

 

জানা গেছে, ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ হওয়ার পর যার যার আসনের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন নিবন্ধিত ভোটারা। পরদিন থেকেই ফিরতি ডাক পাঠানো যাবে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে আসনভিত্তিক প্রার্থী তালিকা, নাম ও প্রতীক দেখে ‘টিক’ চিহ্ন দিয়ে তারা ভোট দেবেন পোস্টাল ব্যালটে। দ্রুত সময়ে ভোট দিয়ে ব্যালট ফেরত পাঠাতে হবে।

 

১২ ফেব্রুয়ারির আগে উপযুক্ত সময়ের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ব্যালট না পৌঁছালে সেই ভোট গণনায় নেওয়া হবে না। ভোটের গোপনীয়তা রক্ষায় তাগিদ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভোট দেওয়ার পর পোস্টাল ব্যালটের ছবি বা ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা ‘দণ্ডনীয় অপরাধ’, এর জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) স্থগিত করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটার ছাড়াও নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী, কর্মস্থলের কারণে নিজ এলাকার বাইরে থাকা সরকারি চাকরিজীবী ও আইনি হেফাজতে থাকা ভোটাররা এই অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনের সুযোগ পেয়েছেন।

 

গত ১৮ নভেম্বর উদ্বোধন হওয়া এই অ্যাপের মাধ্যমে বিশ্বের ১৪৮টি দেশ থেকে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২জন প্রবাসীরা তাঁদের সংশ্লিষ্ট দেশের মুঠোফোন নম্বর ব্যবহার করে পোস্টাল ভোটে নিবন্ধিত হতে পেরেছেন।