২০২৫ সালে গাজা উপত্যকায় শিশুর অপুষ্টি উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। সম্প্রতি বছরে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯৫ হাজার শিশুর অপুষ্টির ঘটনা শনাক্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে জাতিসংঘ। শীতকালীন আবহাওয়া মানবিক সহায়তায় যে সামান্য অগ্রগতি হয়েছিল, তা ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এ খবর জানিয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) নিউইয়র্কে সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক বলেছেন, মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) এর তথ্য অনুযায়ী, গাজা উপত্যকার মানবিক পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত ভয়াবহ। কঠোর আবহাওয়া পরিস্থিতি মানবিক সহায়তার অগ্রগতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
কঠোর আবহাওয়ার প্রভাব শিশুদের ওপর কতটা ভয়াবহ, সে বিষয়ে আলোকপাত করে দুজারিক বলেছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এবং বছরের শেষ পর্যন্ত আমাদের অংশীদাররা শীতকালীন সহায়তার অংশ হিসেবে ৩ লাখ ১০ হাজারের বেশি শিশুকে শীতের পোশাক এবং ১ লাখ ১২ হাজারের বেশি জোড়া জুতা বিতরণ করতে পেরেছে। শিশুদের জন্য নিরাপদ ও বন্ধুসুলভ পরিবেশ তৈরিতে গাজাজুড়ে ১৫০টি বিশেষায়িত তাঁবু স্থাপন করা হয়েছে।
গাজায় ইসরায়েলের চলমান ধ্বংসযজ্ঞ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে দুজারিক বলেছেন, আমরা চাই গাজায় যা কিছু অবশিষ্ট আছে, তার ধ্বংস বন্ধ হোক। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো দ্বিতীয় ধাপে এগিয়ে যাক, যাতে পুনর্গঠনের কাজ শুরু করা যায়।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার আওতায় ১০ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর মাধ্যমে দুই বছর ধরে চলা ইসরায়েলি হামলা বন্ধ হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ওই হামলায় এখন পর্যন্ত ৭১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজারেরও বেশি মানুষ।