সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশের সঙ্গে যেসব জানা-অজানা চুক্তি করেছে সেগুলো খতিয়ে দেখা উচিত। তিনি বলেন, ডকুমেন্টসে দায়-দেনা পরিস্থিতি এবং অন্তর্বর্তী সরকার যে সমস্ত ক্রয় চুক্তি করে গেছে সেগুলো আরও ভালো করে পর্যালোচনা করে দেখা উচিত। কারণ, অন্তর্বর্তী সরকার যাওয়ার আগে অনেক ধরনের চুক্তি করেছে। সেগুলো কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নয়, আরও অন্যান্য ক্ষেত্রে হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে ‘নতুন সরকারের সূচনাবিন্দু: অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।
দেবপ্রিয় বলেন, সমস্ত বৈদেশিক চুক্তি আবার বিবেচনা করা উচিত, যাতে নতুন সরকারের কাছে কী ধরনের দায়-দায়িত্ব বর্তায়, তা জানা যায়। কারণ নতুন সরকার এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পুনর্মূল্যায়ন করতে রাজি আছে। বিএনপি যদি এই ময়নাতদন্ত করতে পারে, তাহলে অন্য অনেক কাজ করতে পারবে।
জনতুষ্টিবাদী কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই উল্লেখ করে ড. দেবপ্রিয় বলেন, ‘কৃচ্ছতা না করেন, সংযম অবস্থান দেখাতে হবে। আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কৃচ্ছতা না দেখান, সংযম না দেখান– তাহলে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি থেকে শুরু করে অন্যান্য অসুবিধাগুলো খুবই পরিষ্কারভাবে ভাগ হয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান। আরও বক্তব্য দেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান।
মূল প্রবন্ধে তৌফিকুল ইসলাম বলেন, এই সরকারের প্রথম পরীক্ষা হবে, তারা কতখানি বাস্তবসম্মতভাবে বাজেট সংশোধন করতে পারে। একইসঙ্গে আগামী বছরের বাজেট তৈরির কাঠামো শক্ত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠা করতে পারে। বিএনপি অনেকগুলো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের দিকে এগোনো উচিত। কারণ, আর্থিক সক্ষমতা এই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।