২৫ জানুয়ারি, ২০২৬

বাংলাদেশ হবে মদিনা মডেলে, আমরা কথা দিলে কথা রাখি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে উত্তরবঙ্গ সফরে এসে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল শুক্রবার দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও রংপুরে পৃথক জনসভায় তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেন।

জামায়াত আমির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘এমন বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই, যেখানে একটি শিশু জন্মগ্রহণের পরপরই তিনটি অধিকার পাবে। একটি বাঁচার অধিকার, দ্বিতীয়টি সুস্বাস্থ্যের অধিকার এবং তৃতীয় শিক্ষার অধিকার।’ ‘বেগমপাড়ার চোরদের ধরে এনে শাস্তি দেওয়া হবে’ জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘চুরি করে যে লক্ষ-কোটি টাকা বিদেশে নিয়ে গেছে, ওগুলো ওদের পেটের ভেতর থেকে আমরা বের করে আনব।’

জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ‘মদিনার মডেল’ অনুসরণ করবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা দেশকে ইরান, পাকিস্তান কিংবা আফগানিস্তান বানাতে চাই না। আমরা গর্বের বাংলাদেশ বানাতে চাই।’

গতকাল বিকেলে দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ ময়দানে ১০ দলীয় ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘উত্তরবঙ্গ হবে কৃষি শিল্পের রাজধানী। সেই শিল্প গড়ে তোলা হবে। ক্ষমতায় গেলে আম, লিচুর খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানা গড়ে তোলা হবে। ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে। ফসল এবং সবজির হিমাগার গড়ে তোলা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তান আমলে ১৯টি বড় জেলা ছিল। এর মধ্যে দিনাজপুর গুরুত্বপূর্ণ। এটা দেশের শস্যভান্ডার। এখনও সিটি করপোরেশন করা হয়নি। জামায়াতে ইসলামী যদি সরকার গঠনের সুযোগ পায়, দিনাজপুর শহরকে সিটি করপোরেশন করা হবে। বাংলাদেশের অন্যান্য জায়গায় যদি গ্যাসের অংশীদারিত্ব থাকে, দিনাজপুরেও আসবে।’

স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে পরিকল্পনা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জামায়াত ক্ষমতায় গেলে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত সব শিশু এবং ৬৫ বছর বয়সী সব মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে। একটা সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। বাংলাদেশে এমন কোনো জেলা থাকবে না, যেখানে সরকারি মেডিকেল কলেজ হবে না।’

দল, নেতাকর্মী ও প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কেউ নির্বাচনে সন্ত্রাস করবেন না। ভোট জালিয়াতি বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চিন্তাও করবেন না। কারও পক্ষ নেবেন না।’