যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি বোর্ডে যোগ দিতে সম্মত হয়েছে আরো সাতটি দেশ। একটি যৌথ বিবৃতিতে সৌদি আরব, তুরস্ক, মিশর, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও কাতার ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে। খবর বিবিসির।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই দেশগুলো ইসরায়েলের সঙ্গে এই বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত হবে। ইসরায়েল আগেই নিজেদের অংশগ্রহণের কথা নিশ্চিত করেছিল।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ট্রাম্প জানান, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও যোগ দিতে রাজি হয়েছেন- তবে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তার দেশ এখনও আমন্ত্রণটি বিবেচনা করে দেখছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, এই বোর্ডের লক্ষ্য গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধ করা এবং পুনর্গঠন তদারকি করা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এটিকে জাতিসংঘের বিকল্প একটি সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বুধবার যৌথ এক বিবৃতিতে সৌদি আরব জানায়, সৌদি আরব, তুরস্ক, মিশর, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও কাতার- গাজায় একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি সুসংহত করা, পুনর্গঠনে সহায়তা ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বোর্ড অব পিস’-কে সমর্থন করেছে।
একই দিনে সুইজারল্যান্ডে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, পুতিন তার যোগদানের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। ট্রাম্প বলেন, “তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, তিনি গ্রহণ করেছেন। অনেকেই এটি গ্রহণ করেছেন।”
তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, পুতিন দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন যে, আমন্ত্রণটি বিবেচনাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, রাশিয়া জব্দকৃত রুশ সম্পদ থেকে ১ বিলিয়ন ডলার দিতে প্রস্তুত এবং তিনি এই বোর্ডকে মূলত মধ্যপ্রাচ্যের জন্য প্রাসঙ্গিক হিসেবে দেখছেন।
বিবিসি বলছে, ট্রাম্পের এই নতুন সংস্থায় কতগুলো দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। আমন্ত্রিত দেশগুলোর তালিকায় কানাডা ও যুক্তরাজ্য থাকলেও তারা এখনও প্রকাশ্যে কোনো সাড়া দেয়নি। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, আলবেনিয়া, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বেলারুশ, হাঙ্গেরি, কাজাখস্তান, মরক্কো ও ভিয়েতনাম ইতিমধ্যে স্বাক্ষর করেছে।
বুধবার ভ্যাটিকানও নিশ্চিত করেছে যে, পোপ লিও একটি আমন্ত্রণ পেয়েছেন। ভ্যাটিকানের সেক্রেটারি অব স্টেট কার্ডিনাল পিয়েত্রো পারোলিন সাংবাদিকদের বলেন, এতে অংশ নেবেন কি না তা বিবেচনা করতে পোপের সময়ের প্রয়োজন হবে। অন্যদিকে, স্লোভেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট গোলব এই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার মতে, এই সংস্থাটি ‘বিপজ্জনকভাবে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলায় হস্তক্ষেপ করে’।
একটি ফাঁস হওয়া নথিতে বলা হয়েছে, শান্তি বোর্ডের সনদটি কার্যকর হবে যখন তিনটি রাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে এতে সম্মত হবে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে নবায়নযোগ্য তিন বছরের মেয়াদ দেওয়া হবে এবং যারা ১ বিলিয়ন ডলার প্রদান করবে তাদের জন্য স্থায়ী আসন থাকবে।
সনদে এই সংস্থাকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে শান্তি রক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ট্রাম্প এর চেয়ারম্যান এবং পাশাপাশি মার্কিন প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তার হাতে নির্বাহী বোর্ডের সদস্য নিয়োগ ও সহায়ক সংস্থা তৈরি বা বিলুপ্ত করার ক্ষমতা থাকবে।