৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

অ্যালার্জিক রাইনাইটিস কাদের বেশি হয়?

বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ অ্যালার্জিক রাইনাইটিস ও হাঁপানির মতো শ্বাসযন্ত্রজনিত রোগে ভুগছেন। এই রোগ অস্বস্তি সৃষ্টি করে এবং জীবনমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই রোগগুলোর সঙ্গে নাকের ভেতরে থাকা ভিন্ন ধরনের ছত্রাকসমষ্টি বা মাইকোবায়োমের সম্পর্ক থাকতে পারে।

পোর্তো বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. লুইস ডেলগোর নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণাটি ‘Frontiers in Microbiology’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। মোট ২১৪ জনের ওপর গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়েছে। যাদের মধ্যে ১৫৫ জনের অ্যালার্জিক রাইনাইটিস ও হাঁপানি দুটোই ছিল, ৪৭ জনের শুধু রাইনাইটিস ছিল, ১২ জনের শুধু হাঁপানি ছিল এবং ১২৫ জন রাইনাইটিস মোকাবিলায় সক্ষম ছিলেন।

অ্যালার্জিক রাইনাইটিসে হাঁচি, চুলকানি ও নাক দিয়ে পানি পড়ার মতো উপসর্গ দেখা যায়। রোগটি মূলত ধুলো, পরাগরেণু ও ছত্রাকের প্রভাবে হয়ে থাকে।

অন্যদিকে, হাঁপানি একটি দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসযন্ত্রের রোগ, যেখানে শ্বাসনালিতে প্রদাহ ও সংকোচন ঘটে, ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। হাঁপানির সময় কাশি, শোঁ শোঁ শব্দ করে শ্বাস নেওয়া এবং বুকে চাপ অনুভূত হতে পারে।

গবেষকরদের মতে, ‘‘ডিএনএ ও আরএনএ উৎপাদনের সঙ্গে সম্পর্কিত তিনটি বিপাকীয় পথ শ্বাসযন্ত্রের রোগে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে রাইনাইটিস বেশি সক্রিয় থাকে।’’

ভারতের সিকে বিড়লা হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের লিড কনসালট্যান্ট ড. দীপ্তি সিনহা জানান, নাক হলো শ্বাস নেওয়া বাতাসের প্রধান প্রবেশপথ। এই পথে ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসসহ নানা অণুজীবের একটি ইকোসিস্টেম পরিচালিত হয়।এসব অণুজীব রোগ সৃষ্টি করবে কি না, তা নির্ভর করে ব্যক্তির রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং অণুজীবগুলোর বৈশিষ্ট্যের ওপর।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, নাকের মাইক্রোবায়োমে ভারসাম্য নষ্ট হওয়া  অ্যালার্জি ও শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত, যা সুস্থ মাইক্রোবিয়াল ভারসাম্য বজায় রাখার গুরুত্বকে তুলে ধরে। সূত্র: ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস

Home R3